দিনভর বৈঠক করেও কংগ্রেসের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য নতুন কোনও মুখ খুঁজে পেল না দলের ওয়ার্কিং কমিটি। শেষ পর্যন্ত সেই পিছনের দিকেই হাঁটলেন কংগ্রেস নেতারা। অন্তর্বর্তী সভানেত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হল সনিয়া গান্ধীকে। যতদিন না নতুন কাউকে স্থায়ী সভাপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত ফের কংগ্রেসের ব্যাটন থাকছে সনিয়ার হাতেই। 

এ দিন দিল্লিতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সভা শুরু হয়েছিল সকাল এগারোটায়। আশা করা হয়েছিল এ দিনের বৈঠক থেকেই নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা হতে পারে। কিন্তু সভাপতি হিসেবে শেষ পর্যন্ত কাউকে দলের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা বেছে নিতে পারবেন কি না, তা নিয়েও সংশয় ছিল। তবে যেভাবে রাহুল গান্ধী থেকে সরে গিয়েছিলেন, তাতে আশা করা হয়েছিল এবার হয়তো গান্ধী পরিবারের বাইরে বেরিয়ে সচিন পাইলট বা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার মতো কোনও তরুণ মুখকে সভাপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তা হল না। ভবিষ্যতে স্থায়ী সভাপতি হিসেবে গান্ধী পরিবারের বাইরে কংগ্রেস কাউকে বাছতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার। 

এ দিন ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে শেষ পর্যন্ত রাহুল গান্ধীর ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে প্রেস বিবৃতিতে দলেক তরফে জানানো হয়, 'কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি সর্বসম্মতভাবে রাহুল গান্ধীকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাঁর ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়েছে। এর পর ওয়ার্কিং কমিটি সর্বসম্মতভাবে সনিয়া গান্ধীকে অন্তর্বর্তী সভানেত্রীর দায়িত্ব নিতে অনুরোধ করে। যতদিন না নতুন সভাপতি নির্বাচন হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত তিনিই দায়িত্বে থাকবেন। সনিয়া গান্ধী সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন।'

এ দিন বৈঠক চলার মাঝখানেই অবশ্য বেরিয়ে গিয়েছিলেন রাহুল- সনিয়া। তাঁদের যুক্তি ছিল, যেহেতু অতীতে তাঁরা সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন, তাই নতুন সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাঁরা থাকতে পারেন না। দলের বিপদে অবশ্য শেষ পর্যন্ত সেই সনিয়াকেই আরও একবার দায়িত্ব নিতে হল।