ফি বৃদ্ধির বিরোধিতায় জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ চলাকালীন এবিভিপি-র বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ। হামলায় মাথা ফেটেছে ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষের। এছাড়াও হামলা আক্রান্ত হয়েছেন আরও অনেক ছাত্রছাত্রী। অভিযোগ, এ দিন সন্ধ্যার পর আচমকাই জেএনইউ ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে লাঠি, ব্যাট নিয়ে হামলা চালায় বহিরাগতরা। হামলাকারীদের মুখ ঢাকা ছিল বলেও অভিযোগ। হামলা চালানোর পর বহিরাগতরা ক্যাম্পাস ছেড়ে নিশ্চিন্তে বেরিয়ে যায় বলেও অভিযোগ। হামলা চলার সময়কার বেশ কিছু ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে মুখে কাপড় বেঁধে হাতে লাঠি নিয়ে জেএনইউ ক্যাম্পাসের হোস্টেলের মধ্যে আলো নিভিয়ে রীতিমতো তাণ্ডব চালাচ্ছে কয়েকজন। যদিও এই ভিডিওগুলির সত্যতা যাচাই করেনি এশিয়ানেট নিউজ বাংলা। 

 

 

ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে বেশ কিছুদিন ধরেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছে জেএনইউ-এর ছাত্রছাত্রীরা। জেএনিউ-এর ছাত্র সংসদ এসএফআই-এর দখলে রয়েছে। মাঝে নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতাতেও সরব হয় জেএনইউ-এর পড়ুয়াদের একটা বড় অংশ। ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রথমে পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিলেও পরে তা ফের লাগু করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর প্রতিবাদে ফের এ দিন ছাত্র বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। সেই বিক্ষোভ চলাকালীনই সন্ধ্যায় পেরিয়ার হোস্টেল, সবরমতী হোস্টেলে জনা কুড়ি বহিরাগত হামলা চালায় বলে অভিযোগ। হামলাকারীদের থেকে বাঁচতে ছাত্রীরা ঘরে ঢুকে দরজা আটকে দেন।  ঘটনার পর আহত ঐশী ঘোষ সহ অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদের এইমস-এর ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসের মধ্যে পুলিশের উপস্থিতিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। 

 

 

এসএফআই-এর সাধারণ সম্পাদক ময়ুখ বিশ্বাসের অভিযোগ, 'ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন ছিল। কর্তৃপক্ষ সেই দাবি মানেনি। আরএসএস পুষ্ট কর্তৃপক্ষ এবিভিপি-র গুন্ডাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে নিয়ে আসে। তাঁরাই ছাত্রছাত্রীদের উপরে নির্মম হামলা চালিয়েছে। জেএনইউ-এর ভিতরেও বহু ছাত্রছাত্রী আটকে রয়েছে। গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এর বিরুদ্ধে দিল্লি সহ গোটা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে দেব।'

 

 

ময়ুখের আরও অভিযোগ, হামলার সময় বা তার পরে পুলিশকে ফোন করেও সাহায্য পাওয়া যায়নি। এমন কী, আহতদের হাসপাতালে আনতে অ্যাম্বুল্যান্সেরও ব্যবস্থা করেনি পুলিশ।