মহারাষ্ট্রে আস্থা ভোটের নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। বুধবারই এই আস্থা ভোট করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। গোপন ব্যালট নয়, আস্থা ভোটের সরাসরি সম্প্রচার করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে যথেষ্টই চাপে পড়ে গেল দেবেন্দ্র ফড়নবীশ সরকার। বুধবারই সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হবে দেবেন্দ্র ফড়নবীশ- অজিত পাওয়ারদের। 

নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রোটেম স্পিকার নিয়োগ করে বিকেল পাঁচটার মধ্যে সব বিধায়কদের শপথ গ্রহণ শেষ করতে হবে। রাজ্যপালই প্রোটেম স্পিকার নিয়োগ করবেন। বিধায়কদের শপথ গ্রহণ পর্ব মিটলেই শুরু করতে হবে আস্থা ভোট। কোনও দলই যাতে বিধায়ক কেনাবেচার সময় না পায়, তাই বুধবার সন্ধের মধ্যেই আস্থা ভোট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শীর্ষ আদালতের এই রায়ের ফলে বুধবার গত প্রায় একমাস ধরে চলতে থাকা মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন নিয়ে নাটকে যবনিকা পড়তে চলেছে। 

বিচারপতি এন ভি রমান্না, বিচারপতি অশোক ভূষণ এবং বিচারপতি সঞ্জীব খন্নার ডিভিশন বেঞ্চ এ দিন এই নির্দেশ দিয়েছে। রায় দিতে গিয়ে বিচারপতিরা জানান, এই মুহূর্তে গণতন্ত্র রক্ষা করাই সবথেকে জরুরি বলে তাঁরা মনে করছেন। 

এই রায়ের ফলে প্রবল চাপে পড়ে গেল এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ারের সমর্থন নিয়ে সদ্য গঠিত দেবেন্দ্র ফড়নবীশ সরকার। গত ২৩ নভেম্বর সকালে অজিত পাওয়ারের দেওয়া ৩৫ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছিল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। 

এই মুহূর্তে  শিবসেনা, কংগ্রেস এবং এনসিপি জোটের সঙ্গে ১৬২ জন বিধায়ক রয়েছেন। সোমবারই বিধায়কদের নিয়ে ফটোসেশন করে নিজেদের শক্তির পরিচয় দিয়েছে তিন দল। মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৫ জন বিধায়কের সমর্থন। 

অজিত পাওয়ারের সমর্থন নিয়ে বিজেপি দেবেন্দ্র ফড়নবীশের সরকার গঠনের পর সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিল কংগ্রেস, এনসিপি এবং শিবসেনার জোট। দেবেন্দ্র ফড়নবীশ এবং অজিত পাওয়ারের সরকারকে আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে দেখানোর জন্য সুপ্রিম কোর্ট এবং রাজ্যপাল ভগঘ সিং কোশিয়ারিকে আবেদন জানিয়েছিল তিন দল।