সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকরে কোনও স্থগিতাদেশ দিতে রাজি হল না সুপ্রিম সরকার। নতুন আইনের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে ৫৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলাগুলি নিয়ে এ দিন প্রথম দিনের শুনানিতে অন্তত স্বস্তি পেল কেন্দ্রীয় সরকার। তবে স্থগিতাদেশ না দিলেও কেন্দ্রকে নোটিশ পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত। 

 এ দিন প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ বোবদের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। মামলার বিরোধিতা করে একাধিক আইনজীবী স্থগিতাদেশ জারি করার আর্জি জানান বিচারপতিদের কাছে। পাল্টা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল পুরনো চারটি রায়ের কথা উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল দাবি করেন, কোনও আইনের উপরে স্থগিতাদেশ দিতে পারে না সুপ্রিম কোর্ট। এর পরে দায়ের হওয়া আবেদনগুলির ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় আদালত। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশের জবাব দিতে হবে। তবে নতুন আইনের উপরে স্থগিতাদেশ দিতেও রাজি হয়নি শীর্ষ আদালত। আগামী ২২ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।  

অসমের এক আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর রাজ্য জ্বলছে। সেই কারণ নতুন আইনের উপরে স্থগিতাদেশ জারি করা হোক। আইনজীবী রাজীব ধাওয়ান পাল্টা দাবি করেন, যেহেতু  এই আইন এখনও কার্যকর করা হয়নি, তাই এর উপর স্থগিতাদেশ জারি করার কোনও প্রয়োজন নেই। প্রধান বিচারপতি অবশ্য জানিয়ে দেন, এ দিন কোনও সওয়াল জবাব শুনবেন না তিনি। 

তবে এ দিন শীর্ষ আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দিয়ে বলে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ঠিক কী, তা বিশদে জানিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। যাতে নয়া আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষও ওয়াকিবহল হতে পারেন। 

নতুন আইনের বিরোধিতায় যে আবেদনগুলি জমা পড়েছে, তার মধ্যে রয়েছে বিজেপি-র জোট সঙ্গী অসম গণ পরিষদ, কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এবং রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ ঝা-র আবেদন।