মৃত্যুদণ্ডের সাজা পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছিল অক্ষয় কুমার সিং। ২০১২ সালে দিল্লিতে নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার দোষী চারজনের অন্যতম। কিন্তু বুধবার সুপ্রিম কোর্ট তার সেই আবেদন নাকচ করে দিল। এদিন আদালতে অক্ষয়ের আইনজীবী এপি সিং বলেছিলেন 'মৃত্যুদণ্ড অত্যন্ত আদিম সাজা'। পাল্টা সরকার পক্ষের আইনজীবী তুষাড় মেহতা বলেন, 'এ এমন এক অপরাধ যাতে ভগবানের চোখেও জল চলে আসে'। এরপর বিচারপতি আর ভানুমতি-র নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের ২০১৭ সালের রায়-ই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জানায়।

এদিন সুপ্রিম কোর্টে অক্ষয়কুমারের পক্ষে দাঁড়ানো আইনজীবী এপি সিং বলেন, মৃত্যুদণ্ড অত্যন্ত আদিম সাজা। মৃত্যুদণ্ডে অপরাধী খতম হয়, কিন্তু অপরাধ খতম হয় না। নির্ভয়ারর মৃত্যুর কারণ সেপ্টিসেমিয়া ও ড্রাগ ওভারডোজ বলে দাবি করেন তিনি বলেন, ভুয়ো রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন - কান্নায় ভেঙে পড়লেন আশা দেবী, এই বছরও ফাঁসি হচ্ছে না নির্ভয়া-আসামীদের

অন্যদিকে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার আবেদন করে, সলিসিটর জেনারেল তুষাড় মেহতা বলেন, এ এমন এক অপরাধ যাতে মানবতাই লজ্জায় মুখ ঢেকেছে। ভগবানের চোখেও জল এসেছে। কাজেই কোনও ক্ষমা এই অপরাধীদের প্রাপ্য নয় বলে যুক্তি দেন তিনি।    

আরও পড়ুন - নির্ভয়া কাণ্ডের চার দোষীর ফাঁসিতেই ভাঙবে দাদুর রেকর্ড, গর্বিত পবন জল্লাদ

এদিন আদালত রায় দেওয়ার পর অক্ষয়কুমারের আইনজীবী, জানান এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন তাঁর ক্লায়েন্ট। এরজন্য তিন সপ্তাহ সময় চান তিনি। তবে সলিসিটর জেনারেল তা মানতে চাননি। তিনি জানান, আদালত রায় দেওয়ার পর প্রাণভিক্ষার জন্য অপরাধীদের এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। আদালতও জানিয়েছে তার বেশি সময় পাবেন না অক্ষয়কুমার।

আরও পড়ুন - আমি ফাঁসি দিতে চাই নির্ভয়ার দোষীদের, অমিত শাহকে রক্ত দিয়ে চিঠি লিখলেন আন্তর্জাতিক শ্যুটার

২০১৩সালে নির্ভয়া কাণ্ডের চার জীবিত অপরাধী মুকেশ, অক্ষয়, পবন ও বিনয়কে ফাঁসির সাজা দিয়েছিল ট্রায়াল কোর্ট। যা চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছিল তারা। ২০১৭ সালে সেই রায়ই বহাল রাখে হাইকোর্ট। এরপর সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন চার অপরাধীর একজন অক্ষয় কুমার সিং।

আরও পড়ুন - বরাত এল ১০টি ফাঁসির দড়ির, নির্ভয়া কাণ্ডের দোষীদের ঘিরে জোর জল্পনা