ভারতে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে নমসস্তে ট্রাম্প অনুষ্ঠান ছাড়াও দুই রাষ্ট্রপ্রধানের আলাদা করে বৈঠক হওয়ার কতা রয়েছে। সেখানে কি উঠবে সিএএ-এনআরসি'র প্রসঙ্গ? হোয়াইট হাউস থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হল মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই বিষয়গুলি নিয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে কথা বলবেন। বিশেষ করে হোয়াইট হাউসের মতে 'ধর্মীয় স্বাধীনতা'র অস্বস্তিকর প্রশ্নটা উঠবেই। তবে ভারতের গগণতান্ত্রীক ঐতিহ্য ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি মার্কিনিদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে, তা জানাতেও ভোলেনি আমেরিকার প্রেসিডেন্টের বাসভবন।  

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারত ও আমেরিকা দুই দেশেরই গণতান্ত্রিক কাঠামোর ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ঐতিহ্য রয়েছে। আইনের শাসনের ইতিহাস রয়েছে। সেইসব বিষয়গুলি নিয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধান প্রকাশ্যে ও বন্ধ ঘরে অবশ্যই আলোচনা করবেন। বিশেষ করে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করা হয়েছে। কাজেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে মনে করিয়ে দেবেন, গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে ধরে রাখা থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মর্যাদা দান - এই সব ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রে গোয়া বিশ্ব ভারতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।

ভারতে গত বছর ডিসেম্বর মাসে পাস হয়েছিল সিএএ আইন। প্রথম থেকেই এই আইনের আওতা থেকে মুসলিমদের বাদ দেওয়ায় বিরোধীরা একে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন যতই দাবি করুক ধর্মীয় স্বাধীনতা তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, প্রথম থেকেই ট্রাম্প-কে একের পর এক মুসলিম বিরোধী পদক্ষেপ নিতে দেখা গিয়েছে। বেছে বেছে ছয় মুসলিম দেশের নাগরিকদের মার্কিন দেশে প্রবেশাধিকার রদ করা থেকে শুরু করে জেরুসালেম-কে ইসরাইলের রাঝধানী হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া - স্বয়ং ট্রাম্পের বিরুদ্ধেই ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগ রয়েছে।

সিএএ আইন পাসের আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংসদীয় কমিটি ভারতে এই আইন পাস হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির সুপারিশ করেছিল। আমেরিকার বুকেও সিএএ-র বিরোধিতায় ও সমর্থনে মিছিল মিটিং হয়েছে।