প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামবিলাস পাসওয়ান। বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গত শনিবারই দিল্লির এক হাসপাতালে তাঁর হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার হয়েছিল। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন রামবিলাস পাসওয়ান। বর্তমান মোদী মন্ত্রিসভায় তিনি ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। এদিন একটি টুইট করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর প্রয়াণের খবর দেন তাঁর সন্তান তথা এলজেপি প্রধান চিরাগ পাসওয়ান।

টুইটে চিরাগ বলেন, 'বাবা, আপনি আর এই পৃথিবীতে নেই তবে আমি জানি আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, আপনি সবসময় আমার সঙ্গেই থাকবেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লির এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই হৃদরোগে ভুগছিলেন রামবিলাস। গত রবিবার চিরাগ পাসওয়ান টুইট করে তাঁর বাবার হার্ট সার্জারির কথা জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন প্রয়োজন পড়লে কয়েক সপ্তাহ পরে আরও একটি অস্ত্রোপচার হতে পারে রামবিলাস পাসওয়ানের।

২০১৪ সাল থেকেই মোদী সরকারে উপভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণসরবরাহ বিভাগের মন্ত্রী ছিলেন রাম ভিলাস পাসওয়ান। বিহার থেকে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে উঠে এসেছিলেন এই দলিত নেতা। ১৯৭৭, ১৯৮০, ১৯৮৯, ১৯৯৬, ১৯৯৮, ১৯৯৯, ২০০৪ এবং ২০১৪ - আটবার লোকসভার সদস্য হয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ। তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল সম্যুখতা সমাজতান্ত্রিক দলের সদস্য হিসাবে। ১৯৬৯ সালে প্রথমবার তিনি বিহার বিধানসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে ১৯৭৪ সালে তিনি লোকদলে যোগ দিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। জরুরি অবস্থার বিরোধিতা করে গ্রেফতার হতে হয়েছিল তাঁকে। পরে ১৯৭৭ সালে বিহারের হাজীপুর আসন থেকে জনতা পার্টির সদস্য হিসাবে তিনি প্রথমবার লোকসভায় প্রবেশ করেছিলেন। পরের সাতবার এই হাজিপুর আসন থেকেই লোকসভার সাংসদ হয়েছিলেন তিনি।

হাসপতালে ভর্তি হওয়ার পর পাসওয়ান বলেছিলেন পুত্র চিরাগ চিকিৎসার জন্য জোর করাতেই তিনি অবশেষে একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সেই সময়ে তিনি অবশ্য অসুস্থতার বিষয়ে বিশদ জানাননি। জানা গিয়েছে, হার্টের তিনি একাধিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি পুত্র চিরাগ দলের দায়িত্বও পালন করছেন বলে তিনি আনন্দিত বলে জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। পাশাপাশি আসন্ন বিহার নির্বাচনে এনডিএ-র সঙ্গে এলজেপির জোটের বিষয়ে পুত্রের সিদ্ধান্তেই তাঁর পূর্ণ সমর্থন আছে বলে জানিয়েছিলেন রামবিলাস পাসওয়ান।