হাথরস গণধর্ষণ মামলায় বড় অগ্রগতি। এই মামলার সম্পূর্ণ তদন্তের ভার সেন্ট্রাল ব্যুরো অ ইনভেস্টিগেশন বা সিবিআই এর হাতে তুলে দিল উ্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার। শনিবার সন্ধ্যায় এক টুইট করে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কার্যালয় থেকে এই খবর দেওয়া হয়। শুক্রবারই হাথরসের এসপি, ডিএসপি সহ মোট পাঁচজন পুলিশ কর্তাকে সাসপেন্ড করেছিল উত্তরপ্রদেশ সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তাঁর ব্যক্তিগত টুইটার হ্যান্ডেল থেকেও একটি টুইট করে জানান, এই মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত দিক যাতে সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা যায়, তার জন্যই রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরও একবার এই ঘটনায় জড়িতদের সকলকেই কঠোর শাস্তি দেওয়া নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, বলে দাবি করছেন যোগী।

গত মঙ্গলবার দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে প্রায় ১৫ দিন ধরে লড়াইয়ের পর দেহত্যাগ করেন হাথরসের ১৯ বছরের দলিত তরুণী। তাঁর মৃত্যুর পর, উত্তরপ্রদেশ পুলিশের একটি দল তাঁর মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁর গ্রামে নিয়ে গিয়ে, পরিবার-এর তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও রাতের অন্ধকারে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সাঙ্গ করেছিল। তাঁর বাবা-মা তাঁর দেহটি শেষবারের মতো বাড়িতেও নিয়ে যেতে পারেননি। তবে এটা একেবারেই সিদ্ধান্ত স্থানীয় প্রশাসন বলে দায় এড়িয়ে গিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের পুলিশ প্রধান এইচ সি অবস্তি।

এরপরই গোটা দেশেই হাথরসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। শুধু এই ভয়াবহ ঘটনাই নয়, এই ঘটনার  তদন্ত পরিচালনায় সন্দেহজনক আচরণ নিয়ে ক্রমে উত্তরপ্রদেশ সরকার এবং রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে জনসাধারণের ও রাজনৈতিক বিরোধীদের চাপ বাড়ছিল। শুক্রবার বিজেপি নেত্রী উমা ভারতীও পর্যন্ত এই ঘটনায় উকত্তরপ্রদেশ সরকার ও বিজেপির ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। এই ঘরে বাইরে তীব্র চাপের মুখেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল যোগী সরকার।

তবে, রাজ্য সরকার সিবিআই তদন্তের কথা ঘোষণা করার পরও মৃতা দলিত তরুণীর পরিবার সন্তুষ্ট নয় বলে জানা গিয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে-র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ভুক্তভোগী পরিবারটি জানিয়েছে, তাঁরা 'যোগীজির সিবিআই তদন্ত' চান না, তাঁরা ঘটনার 'বিচারবিভাগীয় তদন্ত' চান।