লাদাখের সংঘর্ষের জন্য চিনের পরিণাম ভাল হবে না। ভারত শান্তি চায়, এর অর্থ এই নয় যে ভারত প্রতিশোধ নিতে পারে না। শহিদদের অবদান কখনই ব্যর্থ হতে দেবে না ভারত। শুধু চিন নয়, গোটা বিশ্বের উদ্দেশ্যেই কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ঠিক প্রত্য়ুত্তর দেবে ভারত, তা এখনই প্রকাশ না করলেও উরির বা পুলওয়ামার হামলার পর ঠিক যে সুরে পাকিস্তানকে সতর্ক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী, বুধবার ফের একবার সেই একই সুর শোনা গেল নরেন্দ্র মোদীর মুখে।  অর্থাৎ সামরিক পথেই ভারত, চিনকে জবাব দিতে চলেছে এটা মোটামুটি স্পষ্ট।  

এদিন, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আনলক প্রথম দফার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার দ্বিতীয় তথা শেষ দিন। এদিন ভার্চুয়াল বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী চিনের সঙ্গে সংঘর্ষে ভারতীয় সেনা জওয়ানদের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, ভারত বরাবরই প্রতিবেশি দেশগুলির মঙ্গল চেয়েছে। শান্তি-সম্প্রীতি ভারতের দেশগত চরিত্রেরই অংশ। তবে সেইসঙ্গে বীরত্বও  ভারতীয়দের চরিত্রেরই অংশ।

এরপরই তিনি এর আগে উরি বা পুলওয়ামার হামলার পর যেমন বলেছিলেন, ঠিক এক সুরে বলেন, 'জওয়ানদের বলিদান কিছুতেই ব্যর্থ হবে না'। তিনি বলেন তাঁর সরকারে কাছে ভারতের অখণ্ডতা রক্ষাই সর্বোচ্চ গুরুত্বের। অখণ্ডতা রক্ষার কাজে ভারতকে কেউ আটকাতে পারবে না। এই নিয়ে কারোর মনে কোনও ভ্রান্ত ধারণা বা সন্দেহ থাকা উচিত নয়। ভারত শান্তি চায়। কিন্তু, তাকে উস্কালে যে কোনও পরিস্থিতিতে উপযুক্ত জবাব দিতে সক্ষম।

চিন ভারত উত্তেজনা হ্রাসে দুই পক্ষে আলোচনা চলছিল। তারমধ্য়েই সোমবার রাতে গালওয়ান উপত্যকায় চিনা সেনা ও ভারতীয় সেনারা এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। ঘটনাস্থলেই এক কর্নেল-সহ আরও দুই ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। তারপর মঙ্গলবার গুরুতর আহত আরও ১৭ জন সৈনিক মারা যান। এই শহিদদের সম্পর্কে নরেন্দ্র মোদী বলেন, 'দেশবাসী শুনে গর্বিত হবেন, এঁরা এমনি এমনি মৃত্যু বরণ করেননি, মারতে মারতে মরেছেন'।

এরপরই প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা ও বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্যরা ২ মিনিট নীরবতা পালন করে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রীকে দেখা যায় হাত জোড় করে শান্তি মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে নীরবতা ভাঙতে।

কিন্তু, তিনি এদিন বারবারই বুঝিয়ে দিয়েছেন শান্তিমন্ত্র আউরালেও চিনকে কড়া জবাব দেওয়ার চিন্তা তাঁর মাথায় ঘুরছে। জবাব যে দেওয়া হবে তা তো তিনি স্পষ্টই করে দিয়েছেন। এখন সেই জবাব কোনপথে আসে, সেটাই দেখার।