ফিরল মুম্বই হামলার আতঙ্ক। তবে, ভারতে নয়, এই হামলার ঘটনা ঘটল জার্মানিতে। সেখানে পশ্চিমদিকে হানাউ বলে একটি শহরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। বন্দুকবাজরা একাধিক স্থানে হামলা চালিয়েছে। যাতে এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ভারতীয় সময় ভোররাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। জার্মানিতে তখন মধ্যরাত। হামলার পরই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়েছে বন্দুকবাজরা। ঘটনার পিছনে কোনও জঙ্গি যোগ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে জার্মান পুলিশ। 

জানা গিয়েছে, প্রথমে কয়েক জন বন্দুকবাজ হানাউ শহরের কেন্দ্রস্থলে থাকা শিসা বার নামে একটি রেস্তোরাঁ-তে হামলা চালায়। সেখানে গুলিতে ৩ জন নিহত হন। এরা সকলেই সাধারণ নাগরিক। তবে, নিহতদের মধ্যে সকলেই জার্মান কি না অথবা অন্য কোনও দেশের নাগরিক রয়েছেন কি না তা জানা যায়নি। এখানে হামলা চালানো বন্দুকবাজদেরও মুখ স্পষ্ট করে দেখতে পারেননি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা। 

এরপরে বন্দুকবাজরা হানাউ শহরের কাছে একটি শহরতলিতে হামলা চালায়। সেখানে একটি বার ও কফি শপে একইসঙ্গে হামলা হয়। এখানে বন্দুকবাজদের গুলিতে আরও ৫ জন নিহত হন। জখম হব ৫ জন। এখানে নিহত ও আহতদের মধ্যে কোনও বিদেশী নাগরিক আছে কি না তা জানা যায়নি। 

ঘটনাস্থলে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে কোনও বন্দুকবাজেরই মুখ দেখতে পাওয়া যায়নি। আলো-অন্ধকারের সাহায্য নিয়ে বন্দুকবাজরা নিজেদের আড়াল করে রেখেছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও, ঘটনাস্থলে একটি কালো গাড়ি-কে দেখতে পাওয়া গিয়েছে। পুলিশি তদন্তে মনে করা হচ্ছে এই গাড়িটি বন্দুকবাজদের। হামলার পরই গাড়িটিকে রহস্যময়ভাবে গতি বাড়িয়ে অন্যত্র চলে যেতে দেখা গিয়েছে। 

আপাতত গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। আকাশপথে চলছে টহলদারি। হেলিকপ্টার নিয়েও আকাশপথ থেকে আততায়ীদের সম্ভাব্য গতিবিধিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। হানাউ শহরটি জার্মানির পশ্চিমদিকে এবং ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে এর দূরত্ব মাত্র ১৫ কিলোমিটার। 

এই ঘটনার চারদিন আগেই বার্লিনে একটি হামলার ঘটনা ঘটেছিল। একটি টার্কিস কমেডি শো-তে অডিটোরিয়ামের ভিতরে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনায় ১ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার রেশ মেলানো না তার আগেই ফের আরও দুই হামলার ঘটনা ঘটল জার্মানিতে। এবং এই দুই হামলার মধ্যেই ব্যবধাান মাত্র ঘণ্টাখানেকের। ঘটনায় জঙ্গি যোগ আছে কি না তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

গত কয়েক বছর ধরেই জার্মানিতে আইসিস জঙ্গিদের দাপট বেড়েছে। একাধিকস্থানে 'উলফ লোন অ্যাটাক'-এর মতো ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশকিছু মানুষের মৃত্যুও হয়। এমনকী কিছু কিছু ক্ষেত্রে আততায়ীরাও আত্মঘাতী হয় অথবা পুলিশের গুলিতে মারাও গিয়েছিল। সুতরাং, হানাউ শহরের হামলার সঙ্গে আইসিস-এর কোনও যোগ আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।