বড়সড় জঙ্গি হামলা হল মালি-র সীমান্ত সংলগ্ন নাইজার-এর এক সামরিক শিবিরে। নাইজার-এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে বৃহস্পতিবার বিকেলে  কয়েকশো জঙ্গির একটি বিশাল দল গুলি ও মর্টার নিয়ে হামলা চালায় ওই সামরিক শিবিরে। এই ঘটনায় অন্তত ৭১ জন নাইজার সেনাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। 'ইনেটস' এলাকার এই হামলা নাইজার সেনাবাহিনীর উপর গত কয়েক বছরে সবচেয়ে বড় আক্রমণ বলা হচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকেই ইসলামি মৌলবাদী জঙ্গিদের নিশানায় রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশ। এখনও পর্যন্ত এদিনের হামলার দায় কোনও জঙ্গি গোষ্ঠীই স্বীকার না করলেও, এটি আল কায়দা ও আইএস জঙ্গিদের যৌথ প্রয়াস বলে মনে করা হচ্ছে।  

নাইজার-এর জাতীয় টিভি চ্যানেলে সেই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক মুখপাত্র জানান, প্রাথমিকভাবে ৭১ জন সামরিক কর্মী শহীদ হওয়ার খবর মিলেছে। ঘটনায় আরও ১২ জন আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ এখনও পর্যন্ত বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। জঙ্গিরা ভারি অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে বড় আকারে আক্রমণ চালিয়েছিল। তবে প্রাথমিক আকস্মিকতা কাটিয়ে সেনা পাল্টা গুলি চালালে বিপুল সংখ্যক সন্ত্রাসবাদিরও মৃত্যু হয়। প্রায় তিন ঘন্টা ধরে সেনাবাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে তীব্র গুলি বিনিময় চলেছে।

২০১২ সালে কুখ্যাত বোকো হারাম জঙ্গি গোষ্ঠী মালির উত্তরাংশের অনেকটা কব্জা করে নিয়েছিল। এরপর ফরাসী সেনা তাদের হটিয়ে দিয়ে ২০১৫ সালে শান্তি চুক্তি সাক্ষর করে। কিন্তু সেই চুক্তির ধারাগুলি না মানার ফলে জিহাদি গোষ্ঠী গুলির দাপট ছড়িয়ে পড়েছে মধ্য মালি, বুরকিনা ফাঁসো এবং নাইজার-এ।

গত সপ্তাহেই দুই বছর ধরে চলা জরুরি অবস্থার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছেন নাইজার-এর রাষ্ট্রপতি ইসোফু মহম্মদ। এদিন ঘটনার সময় তিনি মিশর সফরে ছিলেন। জানা গিয়েছে সফর বাতিল করে তিনি দেশে ফিরে আসছেন।