লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডার তথা ২৬/১১ মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার মূল চক্রী জাকিউর রহমান লকভীকে শুক্রবার পাকিস্তানের এক আদালত ১৫ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত করল। ঠিক এক সপ্তাহ আগেই সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করেছিল পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। ২০০৮ সালেই মুম্বই-এর ভয়াবহ হামলার পর, তাকে 'গ্লোবাল টেররিস্ট' বা বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদী হিসাবে চিহ্নিত করেছিল রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ১৬৬ জনের, আহত হয়েছিলেন আরও ৩০০ জন। রাষ্ট্রসংঘ লকভি-কে গ্লোবাল টেররিস্ট হিসাবে চিহ্নিত করার পর তাকে কারাবন্দি করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু, ২০১৪ সালের এপ্রিলে লস্কর কমান্ডারকে মুক্তি দিয়েছিল পাক আদালত। সম্প্রতি রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনে লকভির পরিবারের খরচের জন্য মাসিক দেড় লক্ষ টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে পাক সরকার। তার এক সপ্তাহ পরই অবশ্য তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবারই পাকিস্তানের এক সন্ত্রাসবিরোধী আদালত (এটিসি) সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (জেইএম) এর প্রধান মাসুদ আজহার-এর বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। অন্য কয়েকজন জেইএম সন্ত্রাসবাদীর বিরুদ্ধে পঞ্জাব পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি)-র দায়ের করা একটি সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের মামলার শুনানি চলাকালীন এটিসি গুজরানওয়ালা সন্ত্রাসবিরোধী আদালত এই ওয়ারেন্ট জারি করে। বিচারক বলেন, জেইএম প্রধান সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং জেহাদি সাহিত্য বিক্রির বিষয়ে জড়িত। আজহার-এর হদিশ নেই বলে পাক গোয়েন্দারা দাবি করলেও, জানা গিয়েছে সে তার নিজের শহর বাহওয়ালপুরেই কোনও এক নিরাপদ জায়গায় লুকিয়ে আছে।

সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন রুখতে পাকিস্তান তাদের পরামর্শ মতো কাজ করেনি বলে তাদেরকে ধুসর তালিকাভুক্ত করেছে ফিনান্সিয়াল অ্য়াকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ)। মাথার উপর ঝুলছে কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার ভয়। তারপর থেকেই গত ক.য়েক মাসে একের পর সন্ত্রাসবাদ বিরোধী পদক্ষেপ নিতে দেখা গিয়েছে পাক সরকারকে। কয়েক দশকের ধরে দাউদ যে পাকিস্তানে রয়েছে তাই অস্বীকারের করার পরে, গত অগাস্টে পাকিস্তান জাকিউর-রহমান লকভি এবং আদেশ মাসুদ আজহার-সহ ৮৭ জন মার্কামারা সন্ত্রাসবাদীর পাশাপাশি দাউদ ইব্রাহিম-এরও সম্পত্তি ফ্রিজ করেছিল এবং ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। লকভি-র কারাদণ্ড এবং মাসুদ আজহার-এর নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর আলোচনা চলছে, এবার কি পাকিস্তানের নিশানায় ডি কোম্পানি-র প্রধান?