ট্রাম্পের দেশের বেহাল দশা। এবার ভ্লাদিমির পুতিনের দেশে বড় সড় থাবা বসালো করোনাভাইরাস। আক্রান্ত হলেন খোদ রুশ প্রধানমন্ত্রীই।

বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন নিজেই সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, তাঁর করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফল ইতিবাচক এসেছে। আপাতত তিনি মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের সুরক্ষায় জন্য নিজেকে স্ব-বিচ্ছিন্নতায় রাখবেন।

এদিন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর সঙ্গে একটি ভিডিও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মিশুস্তিন। পুতিন-কে তিনি জানান, 'এইমাত্র আমি খবর পেলাম, করোনাভাইরাস-এর জন্য যে পরীক্ষা আমি করিয়েছিলাম তার ফল ইতিবাচক এসেছে'। প্রেসিডেন্টকে তিনি আরও বলেছেন তিনি নিজেকে স্ব-বিচ্ছিন্নতায় রাখাকালীন মন্ত্রিসভার কোনও সদস্যকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।

রুশ প্রধানমন্ত্রী পুতিন-কে আরও বলেন, 'আমাকে এখন স্ব-বিচ্ছিন্নতা অবলম্বন করতে হবে এবং ডাক্তারদের আদেশ অনুসরণ করে চলতে হবে। আমার সহকর্মীদের রক্ষা করার জন্য এটি প্রয়োজনীয়'। তবে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর 'অবিরাম যোগাযোগ' থাকবে বলেই জানিয়েছেন মিশুস্তিন। এছাড়া প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভকে  'ভারপ্রাপ্ত' হিসাবে নিয়ুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বৈঠকে পুতিন তাঁকে পাল্টা বরাভয় দেন। তিনি বলেন, 'এখন আপনার সঙ্গে যা ঘটছে তা যে কারও ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে'। তাই তাঁর ভয় পাওয়ার কিছু নেই। পুতিন আরও বলেন, 'আমি আশা করি আপনি কাজ করতে সক্ষম থাকবেন এবং সরকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন'। প্রধানমন্ত্রীর 'মতামত এবং অংশগ্রহণ' ছাড়া কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। সেইসঙ্গে পুতিন মিশুস্তিন-এর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি রুশ ফেডারেল অ্যাসেমব্লিতে একটি ভাষণ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি সংবিধানে বেশ কয়েকটি সংশোধনীর প্রস্তাব দিয়ে বস্তুত প্রেসিডেন্ট হিসাবে তাঁর চিরস্থায়ী ভাবে থাকাটা নিশ্চিত করেছিলেন। তারপরই পুরো মন্ত্রিসভা-সহ পদত্যাগ করেছিলেন তৎকালীন রুশ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ। মেদভেদেভ বলেন, পুতিন যাতে এই উল্লেখযোগ্য সাংবিধানিক পরিবর্তন আনতে পারেন, তার জন্যই তাঁর পদত্যাগ। পুতিন তাঁর পদত্যাগ গ্রহণ করেন এবং মিশুস্তিন-কে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনীত করেন।

পুতিনের জানিয়েছিলেন তাঁকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসাবে চার প্রার্থীর নাম দেওয়া হয়েছিল। মিশুস্তিনের নাম তার মধ্যে ছিল না। কিন্তু, পুতিন স্বাধীনভাবে প্রধানমন্ত্রী পদে মিশুস্তিনকে মনোনীত করেছিলেন। পরের দিনই পুতিনের ডিক্রি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন মিশুস্তিন। এই প্রথম বিনা ভোটে কেউ রুশ প্রধানমন্ত্রী পদে আসিন হয়েছেন।