গায়েব একটি আস্ত বিমান। শনিবার জাকার্তা বিমানবন্দর থেকে টেক অফের কিছু পর থেকেই বিমানটির সঙ্গে আর কোনওভাবে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার স্রিউইজায়া এয়ার সংস্থার একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমান। যাত্রীবাহী ওই বিমানটিতে মোট ৫০ জন যাত্রী আছেন বলে জানা গিয়েছে। ওই যাত্রীদেরও কারোর খোঁজ মিলছে না। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানীর শহর থেকে বিমানটি পশ্চিম কালিমান্টান প্রদেশের পন্টিয়ানাক শহরে যাচ্ছিল।

এদিন ইন্দোনেশিয়ার বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এদিন স্থানীয় সময় (ভারতের থেকে ২ ঘন্টা ১০ মিনিট এগিয়ে) দুপুর ২:৪০ মিনিটে বিমানটির সঙ্গে শেষ যোগাযোগ করা গিয়েছিল। তবে ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটব়াডার ২৪' জানিয়েছে, তাদের তথ্য বলছে বিমানটি এক মিনিটেরও কম সময়ে ৩০০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতা হারিয়েছিল। তাই বিমানটি দুর্ঘটনার মুখে পড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার বিমান পরিবহন মন্ত্রক এই ঘটনার তদন্ত করছে।

এই মুহূর্তে 'তদন্ত করা হচ্ছে', ছাড়া কিছু জানাতে পারেনি স্রিউইজায়া এয়ার সংস্থাও। এটি ইন্দোনেশিয়া-র অন্যতম সস্তা দরের উড়ান সংস্থা। দেশে এবং  দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে প্রায় ১৯টি বোয়িং বিমান পরিচালনা করে তারা। তবে গায়েব হয়ে যাওয়া বিমানটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স না অন্য কোনও ধরণের বিমান, এই বিষয়ে সংশয় রয়েছে। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের কিন্তু দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট বদনাম রয়েছে।

প্রসঙ্গত ২০১৮ সালের অক্টোবর ইন্দোনেশিয়াতেই একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স  বিমান দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিল। ওই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ১৮৯ জনের। বিমানটি ছিল ইন্দোনেশিয়ার আরও এক বাজেট উড়ান সংস্থা 'লায়ন এয়ার'-এর। এরপর আরেকটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ধ্বংস হয়েছিল ইথিওপিয়া-য়। পরপর এই দুর্ঘটনার জেরে বোয়িং সংস্থাকে আড়াই হাজার ডলার জরিমানা দিতে হয়েছিল এবং ৭৩7 ম্যাক্স বিমানের উড়ান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ২০১৯ সালে পের ওড়ার অনুমতি দেওয়া হয়।