আর রইল না কোনও বাধা। মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২০-তে পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার আগে থেকেই ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আদালতে ভিত্তিহীন মামলা থেকে বুধবার ইলেক্টোরাল ভোট গণনা চলাকালীন ক্যাপিটল ভবনে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলা - কিছুতেই কোনও কাজ হল না। শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জো বাইডেনকে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রপতি এবং কমলা হ্যারিসকে পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হল।

মার্কিন কংগ্রেস জানিয়ে দিল বাইডেনের পক্ষে ভোট ৩০৬টি, আর ট্রাম্পের পক্ষে ২৩২টি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ও অবশেষে তাঁর পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হলেন। এদিন এই ঘোষণার কিছু পরেই ট্রাম্প পরাজয় মেনে নিয়ে জানান, 'মসৃণভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর' করা হবে। অবশ্য এছাড়া তাঁর হাতে আর কোনও রাস্তা খোলা ছিল না। বুধবার ক্যাপিটল ভবনে তাঁর সমর্থকদের ধুন্দুমারের জেরে দারুণ চাপে পড়েছিলেন তিনি। হোয়াইট হাউসের অনেক কর্মী পদত্যাগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। রিপাবলিকানরাও ট্রাম্প সমর্থকদের আচরণের সমালোচনা করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচিত সরকারে বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটাতে চাইছেন এঐই অবিযোগও ওঠে। এরপর সত্যিই আর কোনো রাস্তা খোলা ছিল না তাঁর।

 সহকারি অর্থাৎ মার্কিন ভাইসপ্রেসিডেন্ট মইক পেন্স-ও ঘোষণা করে দিয়েছেন, আগামী ২০ জানুয়ারি আমেরিকার ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন জো বাইডেন। আর আমেরিকার প্রথম মহিলা তথা ভারতীয় বংশোদ্ভূত তথা কৃষ্ণাঙ্গ ভাইস প্রেসিডেন্ট হবেন কমলা হ্যারিস।

গত ৩ নভেম্বর নির্বাচনের পর ৩ দিন লেগেছিল ভোট গণনায়। পরাজয় নিশ্চিত হতেই বইডেনের জয়কে চ্যালেঞ্জ করে একের পর এক প্রদেশে মামলা করেছিল ট্রাম্প শিবির। কিন্তু একটি ক্ষেত্রেও ভোটে কারচুপির কোনও প্রমাণ তাঁরা দেখাতে পারেননি। অবশেষে এদিন সংসদ ভবনে হামলা চালায় তার সমর্থকরা। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ৪ ঘন্টার উপর চলে সংঘর্ষ। ১ মহিলা সহ ৪ ট্রাম্প সমর্থকের মৃত্য়ু হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৫২ জন ট্রাম্প সমর্থককে।