বিশ্ব জুড়ে এখন একটি জিনিসের প্রতীক্ষাতেই রয়েছে সবাই, কবে আসবে করোনাভাইরাসের টিকা? আমেরিকা, ব্রিটেন, ভারত, চিন, রাশিয়া - বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই চলছে এই বিষয়ে গবেষণা। রোজই সেইসব গবেষণার অগ্রগতিতে চোখ রাখছিলেন প্রত্যেকে। অবশেষে সব জল্পনার হল অবসান। ১২ অগাস্টই আসতে চলেছে বিশ্বের প্রথম করোনাভাইরাস ভ্য়াকসিন বা টিকা। শুক্রবার রাশিয়া জানিয়ে দিল, তাদের তৈরি টিকাটি সব রকম পরীক্ষায় সফল হয়েছে, ১২ অগাস্টই তা গণহারে তৈরির জন্য নিবন্ধিত হবে।
   
এদিন রুশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরশকো জানিয়েছেন, রাশিয়া ১২ অগাস্ট বিশ্বের প্রথম করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন নিবন্ধন করতে চলেছে। তবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে কিছুটা সময় লাগবে। তাঁরা আশা করছেন অক্টোবর মাসের পর থেকেই তাদের দেশে গণহারে টিকাকরণ শুরু করা যাবে। একেবারে শুরুতে টিকা দেওয়া হবে স্বাস্থ্য পরিষেবায় যুক্ত ব্যক্তিবর্গ এবং প্রবীণ নাগরিকদের। তিনি আরও জানিয়েছেন এর জন্য সব ব্যয়ভার রুশ সরকারই বহন করবে। তবে সেই টিকা বিশ্বের অন্যান্য দেশেও সরবরাহ করা হবে কি না, তাই নিয়ে একটি কথাও খরচ করেনি রুশ কর্তৃপক্ষ।

দিন কয়েক আগেই রাশিয়া বলেছিল, তাদের গামলেয়া জাতীয় গবেষণা কেন্দ্র-এর মহামারি ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ-এর তৈরি করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনটি ক্লিনিকাল পরীক্ষায় ১০০ শতাংশ সফল হয়েছে। ক্লিনিকাল পরীক্ষায় যাদের এই করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে, তাদের শরীরে সার্স-কোভ-২-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

মস্কোর বারডেনকো সামরিক হাসপাতালে ৪২ দিন আগে এই ক্লিনিকাল ট্রায়ালের অংশ হিসাবে কয়েকজনকে এই চিকার একটি ডোজ দেওয়া হয়েছিল। গত সোমবার তাঁরা ফের হাসপাতালে এসেছিলেন। ওইদিনই পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, তাদের দেহে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করেছে। রুশ প্রতিরক্ষা দাবি করেছে, টিকাটির কোনও নেতিবাচক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা অন্য কোনও সমস্যাও দেখা যায়নি।

রুশ সংবাদ সংস্থাগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের সুরু থেকেই রাশিয়ায় এই টিকার ধারাবাহিক উত্পাদন শুরু হবে। এখনও পর্যন্ত তিনটি রুশ ওষুধ তৈরির সংস্থা এই করোনভাইরাস টিকার বাণিজ্যিক উত্পাদন করার বরাত পেয়েছে।