'হায় জীবন! আর কত কি দেখাবে।' এমনই এক বার্তা উড়ে এসেছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। লকডাউনে কাজের অভাবে উপার্জনে টান পড়েছিল। অভাব সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী হয়েছিলেন  তামিল অভিনয় জগতের দুই ভাইবোন। সে সময়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক তরুণী অভিনেত্রী এই উক্তিটি করেছিলেন। পরে অবশ্য সেই পোস্টটি তুলে নিয়েছিলেন ওই তরুণী। কিন্তু, লকডাউন মানুষকে কতটা অসহায় করে দিয়েছে, তার ফের প্রমাণ মিলল। এবার খোদ কলকাতাতেই বিষ খেলেন একই পরিবারের তিন জন। এঁদের প্রত্যেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনাটি রিজেন্ট পার্ক থানা এলাকার সোনালি পার্কে। 

জানা গিয়েছে  সোনালি পার্কে-র বাড়ি থেকে ওই তিনজনকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই তিনজনের একজন মা এবং বাকি দুই জন তাঁর দুই ছেলে। এক ছেলের বয়স ৪৫ বছর। অন্য ছেলের বয়স ৩৪। ছোট ছেলেটি আবার প্রতিবন্দি। বড় ছেলের কলকাতা হাইকোর্টের এক আইনজীবী-র কাছে কাজ করতেন। কিন্তু লাগাতার লকডাউনে সেই কাজ চলে গিয়েছে বলে প্রতিবেশীদের দাবি। এই দুই ছেলের মা-এর বয়স ৬৭। কিন্তু সংসারের অনিয়মিত আয়ের জন্য তাঁকে পরিচারিকা এবং আয়ার কাজ করতে হত। লকডাউনের জেরে মা-এও কাজ চলে যায়। পুলিশেরও প্রাথমিক অনুমান যে দারিদ্র এবং অভাবের তাড়নাতেই মা এবং দুই ছেলে বিষ জাতীয় কিছু পান করেছিলেন। 

অচৈতন্য অবস্থায় মা ও দুই ছেলেকে উদ্ধারের পর বাঘাযতীন স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা শুরু হলেও তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেই খবর। সপ্তাহ দুয়েক আগে এভাবেই নিজেদের শেষ করে দিয়েছিল বেহালার একটি পরিবার। সেই পরিবারের বছর আশির গৃহকর্তা স্ত্রী ও পুত্রকে খুন করে নিজেও আত্মঘাতী হয়েছিলেন। প্রতিবেশীদের দাবি, ওই গৃহকর্তার করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা গিয়েছিল। এরপর তাঁকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবেশীরা একটি হাসপাতালে যায়। সঙ্গে পুলিশ থাকলেও তারা মাঝরাস্তা থেকে থানায় ফিরে যায় বলে অভিযোগ। এরপর হাসপাতালে ওই ব্যক্তিকে ভর্তি করতে না পেরে প্রতিবেশীরা কলকাতা পুলিশের বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। সেই নম্বর থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মাঝরাত পর্যন্ত ওই বৃদ্ধ এবং তাঁর স্ত্রী ও পুত্রকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরএক হাসপাতালে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু, ভর্তি হওয়া যায়নি। তারপরে ওই বৃদ্ধের স্ত্রী আবার সম্প্রতি সেরিব্রাল অ্যাটাকে পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে পড়েছিলেন। বছর ৪৫-এর ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন। বাড়ি ফিরে মানসিক অবসাদে ডুবে যান ওই বৃদ্ধ। এই ঘটনার দুদিন পরেই বাড়ি থেকে ওই বৃদ্ধ এবং স্ত্রী ও পুত্রের দেহ উদ্ধার করা হয়। আত্মঘাতী হওয়ার আগে বৃদ্ধ চক দিয়ে মেঝেতে একটি সুইসাইড নোটও লিখেছিলেন। তা থেকেই উঠে এসেছিল কতটা অসহায় ছিল সেই পরিবার। করোনাভাইরাসের উদ্ভুত পরিস্থিতিতে দিন-আনা দিন খাওয়া পরিবারের অবস্থা যে আরও খারাপ হবে তা বুঝেই নাকি তিনি জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যদিও, এই ঘটনা নিয়ে নিরুত্তর পুলিশ প্রশাসন। 

এদিকে, এদিনের রিজেন্ট পার্কের সোনালী পার্কের এই ঘটনার পিছনে শুধুই অভাব না অন্য কোনও ঘটনা  জড়িয়ে আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।