গত ৪৮ ঘণ্টায় দ্রুত অবস্থার অবনতি হচ্ছিল ঋষভ সিং-এর। প্রমাদ গুনছিলেন চিকিৎসকরা। অবশেষে থেমে গেল শিশুটির  টানা ৮দিনের লড়াই। শনিবার ভোরে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র ঋষভকে মৃত বলে ঘোষণা করলেন চিকিৎসরা। এই চরম খবর পাওয়ার পরই কান্নায় ভেঙে পড়ে ঋষভের পরিবার।  চোখ জল বাঁধ মানেনি  ঋষভের বাবা  সন্তোষ সি-এর। যিনি আবার শ্রীরামপুর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর। খবর পেয়েই  এসএসকেএম হাসপাতালে হাজির হন  শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। 

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেটাইন্স ডে-র দিন দুর্ঘটনায় পড়ে ঋষভদের স্কুলবাস। সকাল সাতটা নাগাদ পোলবার কামদেবপুরে দুর্ঘটনার মুখে .পড়ে একটি স্কুলবাস। সেই সময় পুলকারটিকে ১৫জন কচিকাঁচা ছিল। এদের মধ্যে পাঁচ জনের আঘাত ছিল গুরুতর। চালকের কথা অনুযায়ী শ্রীরামপুর থেকে চুঁচুড়ার খাদিনা মোড়ের দিকে যাওয়ার পথে আচমকাই তার সামনে একটি লরি ইউটার্ন নেয়। এরপরেই নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে লরিটিকে ধাক্কা মেরে উল্টে যায় পুলকারটি। 

আরও পড়ুন: ব্যর্থ হল সব চেষ্টা, পোলবার পুলকার দুর্ঘটনায় আহত ছাত্র ঋষভের মৃত্যু

নয়ানজুলিতে পুলকার পড়ে যাওয়ার ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছিল ঋষভ ছাড়াও দিব্যাংশু ভগত। বেশ কিছুক্ষণ সংজ্ঞাহীন অবস্থায় নয়ানজুলিতে পড়েছিল দু'জনে। তাতেই তাদের ফুসফুসের ভিতর নয়ানজুলির নোংরা কাদাজল ঢুকে যায়। মারাত্ম জখম দুই ছাত্রকে ওই দিনই গ্রিন করিডোর করে চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতাল থেকে কলকাতার এসএসকএম হাসাপাতালে আনা হয়। দুই খুদের চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয় সাত সদস্যের মেডিক্যাল টিম। ১৪ তারিখ রাতেই অস্ত্রোপচার হয় ঋষভের। শ্বাস নেওয়ার জন্য তাঁকে দেওয়া হয় কৃত্রিম ফুসফুস। তবে প্রথম থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রটি।  সময় যত এগিয়েছে ক্রমশ খারাপ হয়েছে তার পরিস্থিতি। সারা শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ। 

তবে অস্ত্রোপচার করেও কোনও লাভ হয়নি। ক্রমেই অবনতি হতে থাকে ঋষভের অবস্থার। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়াতেই ক্রমেই তার অবস্থার অবনতি হচ্ছে বলে জানান চিকিৎসকরা। শুক্রবার অর্থাৎ ২১ তারিখ রাতে ঋষভের রক্তচাপ শূন্যে নেমে আসে। শনিবার ভোরে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। মাল্টি অরগ্যান ফেলিওর হতেই ঋষভের মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতালের তরফে জানান হয়েছে। 

আরও পড়ুন: রাতের তাপমাত্রা ফের নামল স্বাভাবিকের নিচে, তবে বেলা বাড়তেই গরম অনুভূত

অন্যদেকি আরেক আহত ছাত্র দিব্যাংশুর অবস্থা ঝুঁকিমুক্ত না হলেও কিছুটা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। ভেন্টিলেশন থেকেও বার করা হয়েছে তাকে। দিব্যাংশুকে সুস্থ করে তুলতে এখন মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন চিকিৎসকরা।