শেক্সপিয়র সরণীতে গাড়ি দুর্ঘটনায় গ্রেফতার করা হল কলকাতার একটি নামী রেস্তোরাঁ চেনের মালিকের ছেলেকে। ধৃতের নাম আরসালান পারভেজ। বাইশ বছর বয়সি ওই যুবক কলকাতার নামী রেস্তোরাঁ চেন আরসালানের মালিকের ছেলে। শুক্রবার গভীর রাতে আরসালানের জাগুয়ার গাড়ির ধাক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও দু' জন বাংলাদেশি। অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় চালকের আসনেই ছিল আরসালান পারভেজ। 

পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার গভীর রাতে শেক্সপিয়র সরণী ধরে তীব্র গতিতে বিড়লা তারামণ্ডলের দিক থেকে কলামন্দিরের দিকে নিজের জাগুয়ার গাড়ি চালিয়ে আসছিল আরসালান। সেই সময় লাউডন স্ট্রিট ধরে পার্ক স্ট্রিট থেকে মিন্টো পার্কের দিকে যাচ্ছিল একটি মার্সিডিজ গাড়ি। অভিযোগ, লাউডন স্ট্রিট- শেক্সপিয়র সরণী সংযোগস্থলে সিগন্যাল ভেঙে তীব্র গতিতে মার্সিডিজটিকে ধাক্কা মারে আরসালানের জাগুয়ার। 

সংঘর্ষের জেরে রাস্তার পাশে একটি পুলিশ কিয়স্কের উপরে ছিটকে গিয়ে পড়ে মার্সিডিজিটি। প্রবল বৃষ্টি থেকে বাঁচতে সেই সময় ওই পুলিশ কিয়স্কের নীচে আশ্রয় নিয়েছিলেন কয়েকজন বাংলাদেশের কয়েকজন নাগরিক। মার্সিডিজের ধাক্কায় গোটা পুলিশ কিয়স্কটি তাঁদের উপরে পড়ে। মৃত্যু হয় বাংলাদেশের নাগরিক দুই যুবক- যুবতীর। তাঁদের নাম কাজি মহম্মদ মইনুল আলম এবং ফরহানা ইসলাম তানিয়া। এছাড়াও আরও দুই বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। 

আরও পড়ুন- রাতের কলকাতায় মার্সিডিজে ধাক্কা বেপরোয়া জাগুয়ারের, মৃত দুই বাংলাদেশের নাগরিক

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পরে তদন্তে নেমে দেখা যায় ওই জাগুয়ার গাড়িটি পার্ক সার্কাসের আরসালান রেস্তোরাঁর নামে নথিভুক্ত ছিল। সেই সূত্রেই খোঁজ মেলে আরসালানের। সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা যায়, দুর্ঘটনার পরে গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যাচ্ছে আরসালান। 

পুলিশ জানতে পেরেছে, আরসালান উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যের এডিনবার্গে ছিল। মাসখানেক আগে ফেরে সে। বহুমূল্য ওই জাগুয়ারি গাড়িটিও সে নিজেই চালাত। শুক্রবার রাতেও চালকের আসনেই ছিল সে। বেকবাগান এলাকায় একটি বাড়ি রয়েছে আরসালান পারভেজদের। কিন্তু সে বাইপাসের ধারে একটি বিলাসবহুল আবাসনে থাকত। ধৃতের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মতো জামিন অযোগ্য ধারা, বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ।