বার বার বলা সত্ত্বেও সহযোগিতা করছে না রাজ্য় সরকার। ফের রাজ্য়ের মুখ্য়সচিবকে কড়া চিঠি দিল কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দলের সদস্য অপূর্ব সিনহা। জানা গিয়েছে, একটা নয় দুটো চিঠি দিয়েছেন তাঁরা। সূত্রের খবর, ইতিমধ্য়েই রাজ্য়ের করোনা পরিস্থিতি জানতে ৪টি চিঠি রাজ্য় সরকারকে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় দল। কিন্তু সেই চিঠিগুলির কোনও উত্তর দেয়নি নবান্ন। কেন্দ্রীয় দলের অভিযোগ, রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বাইরে যেতে চাইলেও পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে না তাদের। 

চিঠিতে  কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান লিখেছেন, ‘আধঘণ্টার নোটিসে পরিদর্শনে যেতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় দলকে। মুখ্যসচিব বললেন, যেখানে খুশি যেতে পারেন। এমনকী সিনিয়র অফিসারদের পাঠাতে বলা হলেও, জুনিয়রদের পাঠানো হয়েছে। পুলিশের অনুপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় দলের সুরক্ষার দায়িত্ব নিতে তৈরি রাজ্য? পুলিশ না থাকলে বিএসফের সিদ্ধান্তই কি চূড়ান্ত হবে?’। রাজ্যকে লেখা চিঠিতে প্রশ্ন তুলেছেন কেন্দ্রীয় দলের প্রধান অপূর্ব চন্দ্র।

বরাবরই রাজ্য়ে সরকারের বিরুদ্ধে করোনায়  মৃতের সংখ্যা লুকোনোর অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা। সম্প্রতি যা নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে মুখ্যসচিব। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনও রোগী মারা গেলে তাঁর মৃত্যু করোনার কারণেই হয়েছে, নাকি অন্য কোনও কারণে, তা খতিয়ে দেখতে ৩ এপ্রিল বিশেষ কমিটি গড়েছিল রাজ্য সরকার। সেই কমিটিতে এখনও পর্যন্ত ৫৭টি করোনা সংক্রমণে মৃত্যুর ঘটনা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জানা গিয়েছে, আন্তঃমন্ত্রক টিমের প্রধান অপূর্ব চন্দ্রকে করোনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে ইতিমধ্য়েই ব্যাখ্যা চিঠি দেওয়া হয়েছে। যেখানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব অপূর্ব চন্দ্রেকে স্ব্স্থ্য় দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি বলেছেন, যদি কোনও কোভিড রোগী পথ দুর্ঘটনায় মারা যান, তা হলে বলা যায় না তাঁর কোভিডে মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের এহেন যুক্তি শুনে বেজায় চটেছেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দলের সদস্যরা।

এ নিয়ে পাল্টা মুখ্য়সচিবকে চিঠি দিয়েছেন অপূর্ব চন্দ্র। তাঁর পাল্টা বক্তব্য, পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু আর রোগের কারণে হাসপাতালে মৃত্যুর মধ্যে তো কোনও তুলনাই চলে না। এরপরই রাজ্য়ে করোনায় মৃত্যু নির্ধারণকারী কমিটি কীসের ভিত্তিতে সংখ্যা নির্ধারণ করছেন তা নিয়ে জানতে চাওয়া হয় মুখ্য়সচিবের কাছে। সূত্রের খবর, নতুন প্রশ্নমালায় অস্বস্তি বাড়তে পারে নম্বান্নের। ইতিমধ্য়েই করোনার মৃত্যু নির্ধারণের জন্য় রাজ্য় সরকার যে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছ তার বিজ্ঞপ্তি প্রতিলিপি চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় দল।

 যে কোভিড আক্রান্তরা অন্য কারণে মারা গিয়েছে, তাদের কেস স্টাডি চেয়েছে আন্তঃমন্ত্রক পর্যবেক্ষক দল। এখানেই শেষ। কোভিড আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু নির্ধারণে কত সময় নিয়েছে কমিটি তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। রাজ্য়ে অন্য কারণে মৃত্যু হলেও কি একই ভাবে মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হয়, তা জানতে চেয়েছে কেন্দ্রীয় দল। সর্বশেষ যে বিশেষ পদ্ধতিতে রাজ্য়ে করোনায় মডৃতের সংখ্যা নির্ধারণ হচ্ছে, তা আইসিএমআর-এর গাইডলাইন মেনে হচ্ছে কিনা তাও রয়েছে কেন্দ্রের প্রশ্নাবলীতে।