তাপস পালের মৃত্যুতে তিনি স্তম্ভিত এবং শোকাহত। দলের প্রাক্তন সাংসদের মৃত্যুতে এ ভাবেই শোকজ্ঞাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টুইটারে তিনি লিখেছেন, 'তাপস পালের মৃত্যু সংবাদে আমি শোকাহত এবং স্তম্ভিত। তৃণমূল পরিবারের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি তিনি বাংলা সিনেমার সুপারস্টার ছিলেন। তাপস পাল দু' বারের সাংসদ এবং বিধায়ক হিসেবে মানুষের সেবা করেছেন। আমরা তাঁর অভাব ভীষণভাবে অনুভব করব। তাঁর স্ত্রী নন্দিনী, মেয়ে সোহিনী এবং অগণিত ভক্তদের আমি সমবেদনা জানাই।'

এ দিন সকালেই মুম্বাইয়ের বাদ্রার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় ৬১ বছরে বয়সি অভিনেতার। দীর্ঘদিন ধরে স্নায়ুর রোগে ভুগছিলেন কৃষ্ণনগরের প্রাক্তন সাংসদ। গত ৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ভেন্টিলেশন থেকে বের করেও আনা হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতাল থেকে আর বাড়ি ফেরা হলো না তাপস পালের। এ দিন ভোররাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় এই অভিনেতার। 

 

 

২০০১ সালে আলিপুর থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হন তাপস পাল। এর পর ২০০৬ সালে ফের জয় পান তিনি। ২০০৯ সালে কৃষ্ণনগর থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন এই অভিনেতা। ২০১৪ সালেও জয় পেতে অসুবিধা হয়নি তাঁর। কিন্তু সেই সময়ই ভোটে জয় পাওয়ার পরই বিতর্কিত মন্তব্য করে দলের রোষে পড়েন তাপস। কিন্তু ২০১৬ রোজভ্যালি মামলায় সিবিআই-এপ হাতে তাঁর গ্রেফতারির পরেই দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় তাপসের। অন্যান্য দলীয় নেতাদের হয়ে তৃণমূলনেত্রী এবং দলের নেতারা সরব হলেও তাপসের থেকে যেন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল দল। এতেই যেন মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। সেই সময় অবশ্য তৃণমূলনেত্রীর মুখেও তাপস পালের কথা সেভাবে শোনা যায়নি। অথচ প্রায় অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সম্পূর্ণ অন্য মনোভাব ছিল মমতা এবং তৃণমূলের। জামিন পাওয়ার পর তাপস পাল অবশ্য ফের দলের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে চেয়েছিলেন। দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেও যান তিনি। কিন্তু একে অসুস্থতা, তার উপর দলের বিরূপ মনোভাব, সব মিলিয়ে তাপসের আর রাজনীতিতে সফল প্রত্যাবর্তন ঘটেনি। মৃত্যুর পর অবশ্য তাপস পালকে তৃণমূল পরিবারের সদস্য হিসেবেই অভিহিত করলেন দলনেত্রী।