স্কুলের বাথরুমের মধ্যে ভয়ানকভাবে আত্মঘাতী হল দশম শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনাটি জিডি বিড়লা স্কুলে। শুক্রবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ ওই ছাত্রীকে অচৈতন্য অবস্থায় বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। আত্মঘাতী ছাত্রীর কাছ থেকে তিন পাতার একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। জানা গিয়েছে ওই ছাত্রীটি দশম শ্রেণি-তে ১ থেকে ১০ নম্বর রোলের মধ্যেই ছিল। ঘটনার খবর পেয়ে লালবাজার থেকে চলে আসেন পুলিশের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা। চলে আসেন গোয়েন্দা বিভাগের অফিসাররাও।

আত্মঘাতী ছাত্রী জিডি বিড়লা স্কুলের মর্নিং সেকশনে ক্লাস করত। ৩.২০ নাগাদ এই সেকশনের ছুটি হওয়ার কথা ছিল। আড়াইটে নাগাদ বাথরুমে যায় কিছু ছাত্রী। সেখানেই দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তারা। তার দুহাতের শিরা কাটা ছিল। রক্তে ভেসে যাচ্ছিল চারদিক। এরপরই তারা ছুটে গিয়ে মিস-দের খবর দেয়। সকলে মিলে ছুটে আসেন বাথরুমে। পাঁজকোলা করে ছাত্রীটিকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া হয়। সেখানেই কিছুক্ষণ পরে সে মারা যায়।

ছাত্রীর কাছ থেকে তিন পাতার একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে। এই তিন পাতার নোটে ছাত্রীটি তার পরিবারকে দায়ী করেছে। তার লিখে রেখে যাওয়া তিন পাতার নোটে উল্লেখ যে পরিবার থেকে প্রবল চাপ দেওয়া হত। এই নিয়ে অশান্তি লেগে থাকত। এমনকী, এই চাপের অধিকাংশটাই ছিল পড়াশোনা সংক্রান্ত। এই চাপ আর নেওয়া যাচ্ছিল না বলেই সুইসাইড নোটে জানিয়েছে ছাত্রীটি। 

এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কয়েক বছর আগে কলকাতা শহরের এক নামী শপিং মলের ছাদ থেকে দিল্লি পাবলিক স্কুলের এক ছাত্র নিচে লাফ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিল। সেই ছাত্রও তখন দশম শ্রেণিতে পড়ছিল। এরপর দমদমে একটি ফ্ল্যাটের ছাদ থেকে একসঙ্গে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে সবে স্কুলের গণ্ডী পার হওয়া দুই ছাত্র-ছাত্রী। এই সব ক্ষেত্রে স্কুলের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা কখনও ঘটেনি। কিন্তু, জিডি বিড়লার এই ঘটনা যেন সব ঘটনার মাত্রাকেই ছাপিয়ে গেল। বছর দেড়েক আগে এই স্কুলেই নার্সারি বিভাগের এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনকে নিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠেছিল রাজ্য ও দেশ। সেই ঘটনায় দুই জনের বিরুদ্ধে এখন মমলা চলছেে। এমনকী এই যৌন নির্যাতনের ঘটনার আগেও জিডি বিড়লা স্কুল বাসের মধ্যে হাইস্কুল সেকশনের এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছিল। এহেন বিতর্কে থাকা জিডি বিড়লা স্কুলে ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। বলতে গেলে যত কাণ্ড জিডি বিড়লা স্কুলে। এমনটাই মত এখন বেশকিছু অভিভাবকের।