২১ জুলাইয়ের মঞ্চে  বাংলায় তৃতীয়বারের জয়ের কথা মনে করালেন মমতা। তিনি এদিন বিজেপি তথা মোদীর সরকারকে নিশানা করেই, চব্বিশে লোকসভা ভোট নজরে রেখে দিল্লি সহ সারা দেশে বার্তা পৌছে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। 

আরও পড়ুন, 'কোভিড নিয়ে দেশকে শেষ করে দিয়েছে', ২১-র মঞ্চে BJP-কে আক্রমণ মমতার 


রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় এদিন অভিযোগ জানিয়ে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের একুশের নির্বাচন জয় করতে অত্যাচার চালিয়েছে বিজেপি। কমিশনের মাধ্যমে একাধিক পুলিশ কর্তার রদবদল থেকে শুরু করে মমতার ফোন ট্য়াপিং কিছুই বাদ দেয়নি। তিনি বলেন, 'আমার ফোনও ট্যাপ করেছে, সে কারণে আমার ফোনকে প্লাস্টার করে দিয়েছি।' তবে ফোন শুধু ফোন ট্যাপিই নয়, তিনি এদিন আবারও ফিরিয়ে নিয়ে আসেন নন্দীগ্রামে মনোনয় জমা দেওয়ার পর ঘটে যাওয়া সেই অ্য়াক্সিডেন্টের ঘটনা। বরাবরেই মতোই যার জন্য বিজেপিকেই নিশানা করেন। তিনি বলেন, সেই সময় বাংলার ঘরে ঘরে মেয়েরা আমার পাশে ছিল।' তবুও এত কিছু করে ভারতীয় জনতা পার্টি তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারাতে পারেনি বলে বার্তা দেন মমতা।  তবে এর পর খেলা হবে সোল্গান তুলে হুঙ্কার দিয়ে তিনি বলেন, বিজেপিকে দেশ ছাড়া না করা পর্যন্ত রাজ্যে রাজ্যে খেলা হবে।'

আরও পড়ুন, ২১ জুলাই আটাশ বছর আগে ঠিক কী হয়েছিল, জানুন আজ কেন শহিদ দিবস

প্রসঙ্গত, বছরটা ১৯৯৩, তখনও জন্ম হয়নি তৃণমূলের। রাজ্য শাসন করছে জ্য়োতি বসুর সরকার।  সেসময় রাজ্য যুব কংগ্রেসের নেত্রী তথা সভাপতি মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। সেময় সিপিএমের বিরুদ্ধে ছাপ্পা-রিগিং-র অভিযোগ তোলে বিরোধীরা। এহেন পরিস্থিতিতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে সচিত্র ভোটার পরিচয় পত্রের দাবিতে ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন তৎকালীন  রাজ্য যুব কংগ্রেসের নেত্রী তথা সভাপতি মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়।  ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মমতার ডাকে মহাকরণ অভিযানের জন্য কলকাতার রাজপথে নামে হাজারে হাজারে যুব কংগ্রেস কর্মীরা। রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক সচিবালয়ে এই অভিযান রুখতে তৎপর হয় পুলিশ। বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে করা হয় ব্যারিকেড। কিন্তু মুহূর্তেই তা অন্যরুপ নেই। আচমকাই শুরু হয় গুলি বর্ষণ।  গুলিতে নিহত হন ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মী।  এই ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্য়ুতে উত্তাল হয় রাজ্য-রাজনীতি। কার নির্দেশে গুলি চালাল পুলিশ, এপ্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। তারপর থেকে ১৯৯৩ সালের এই ঘটনার পর প্রতিবছর ২১ জুলাই দিনটিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। যদিও পরবর্তীতে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। তবে ২১ জুলাই দিনটিকে আজও শহিদ দিবসের-র মর্যাদা দেওয়া হয়।