কয়েকশো মহিলা সেখানে শীত বুকে করে জেগে রয়েছেন রাত। কলকাতার ইকবালপুর এখন দ্বিতীয় পার্ক সার্কাস হতে চলেছে শাহিনবাগের পথ ধরে।

ইকবালপুরের নবাব আলি পার্কে চারদিন চাররাত ধরে জেগে রয়েছে মানুষ। দাবি একটাই, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন প্রত্য়াহার করতে হবে। গৃহবধূ থেকে শুরু করে সাধারণ মহিলাদের সংখ্য়াই সেখানে বেশি।  ধর্নামঞ্চে রয়েছেন বিভিন্ন পেশার মানুষও।  বুধবার সকালে মহিলারা সেখানে অনশন শুরু করেছিলেন। সন্ধে অবধি চলেছিল সেই অনশন। শীর্ষ আদালত যখন এই মামলায় ভার তুলে দেয় বৃহত্তর সাংবিধানিক বেঞ্চের ওপর।

নবাব আলি পার্কের ধর্নামঞ্চের অন্য়তম উদ্য়োক্তা শাকিল আখতার পেশায় চিকিৎসক।  ৬৬ বছরের এই প্রৌঢ়ের প্রশ্ন, "আমরা এই দেশে জন্মেছি। আমরা বহুবছর ধরে ভোট দিয়ে এসেছি। কলকাতা সবসময়েই নানা মত ও ধর্মের মানুষদের  ঘর  হয়ে উঠেছে। কেন এমন আইন তৈরি হল?" ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্য়াসোশিয়েশনের খিদিরপুর শাখার সম্পাদক আখতারের কথায়, "আমরা এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করছি। আমাদের আন্দোলন চলবে।"

সমাজকর্মী শওকাত আলি স্পষ্টই বললেন, "শাহিনবাগ আমাদের পথ দেখিয়েছে। আমাদের কাছে এটাই সময়। হয় এবার নয় নেভার। এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। মহিলারা পুরোভাগে রয়েছেন। বিভিন্ন পেশার মানুষ এখানে এসেছেন। কারণ, এই আইন তো শেষ  অবধি সবারই ক্ষতি করবে।"

ডাক্তারি পড়ুয়া ইক্রা সিদ্দিকি বুধবারই শামিল হয়েছেন ধর্নায়। ডাক্তারির এই তরুণ ছাত্রের কথায়,  "ধর্মের রাজনীতি করছে কেন্দ্রীয় সরকার। অথছ এই দেশ কিন্তু বরাবরই সবাইকে আপন করে নিয়েছে।"