ফের বিপজ্জনক ফাটলের সন্ধান মিলল উল্টোডাঙা উড়ালপুলে। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে এই উড়ালপুলের যে অংশ খসে পড়েছিল, ঠিক সেই অংশেই এই ফাটল মিলেছে। এই ফাটলের কথা জানাজানি হতেই সন্ধে থেকে উল্টোডাঙা উড়ালপুলে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর জেরে বাইপাস জুড়ে এখন শুধু দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের ছবি। বলতে গেলে এক বিশাল যানজট শুরু হয়েছে ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসে। যানজটে অতিষ্ট হয়ে বহু মানুষ হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন। 

 

জানা গিয়েছে মঙ্গলবার কেএমডিএ-র উড়ালপুল এবং সেতুর স্বাস্থ্য পরিদর্শক দল পরিদর্শনে বেরিয়েছিল। শহরের বিভিন্ন উড়ালপুলের স্বাস্থ্য খতিয়ে দেখার পর দলটি উল্টোডাঙা ফ্লাইওভারে আসে। সেখানেই উড়ালপুলের একটি অংশে বিপজ্জনক ফাটল দেখতে পান তারা। জানা গিয়েছে, এই ফাটল উল্টোডাঙা উড়ালপুলের ভেঙে পড়া অংশেই মিলেছে। ভিআইপি রোডের যে মুখটি দিয়ে উল্টোডাঙা উড়ালপুলের উঠে সরাসরি ই এম বাইপাসে পৌঁছনো যেত সেই অংশের মাঝে একটি বড় কংক্রিটের স্ল্যাব দুটি স্তম্ভ থেকে খসে নিচের খালের উপরে গিয়ে পড়েছিল। ২০১৩ সালের ১৩ মার্চের ভোরে এই ঘটনা ঘটে। সেই খসে পড়া কংক্রিটের স্ল্যাবের সঙ্গেই নিচে আঁছড়ে পড়েছিল একটি লরি। লরির ক্ষতি হলেও সে সময় চালক ও খালাসি অক্ষত-ই ছিলেন। কংক্রিটের সেই স্ল্যাবটি বছর দুয়েকের চেষ্টায় ফের দুই স্তম্ভের উপরে স্থাপন করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞ পরিদর্শক দল তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে এই কংক্রিটের স্ল্যাবের একটি সংযোগস্থলে এই বিপজ্জনক ফাটল মিলেছে।  

কেএমডি-এর বিশেষজ্ঞ কমিটি এই নিয়ে কলকাতা পুলিশ ও বিধাননগর পুরনিগমকে সতর্কও করে নোট পাঠায়। এরপরই সন্ধ্যার একটু আগে থেকে উল্টোডাঙা ফ্লাইওভারে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর জেরে ইএম বাইপাসে যানজট শুরু হতে থাকে এবং সন্ধ্যার পরে তা চরম আকার নেয়। সায়েন্স সিটি থেকে উল্টোডাঙা পর্যন্ত যান চলাচল প্রায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই চরমে ওঠে যে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে মানুষ বাস থেকে নেমে পড়ে রাস্তা বরাবর হাঁটতে শুরু করেন। পুলিশ যানজট দূর করার চেষ্টা করলেও এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি।