স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ার কথা ছিল বেলা ৩.২০টা নাগাদ। কিন্তু, বেলা আড়াইটে নাগাদ সব হিসেব যেন উল্টে যায়। দক্ষিণ কলকাতার রানি কুঠি মোড়ে জিডি বিড়়লার স্কুলের বাথরুমে আবিষ্কার করা হয় এক অচৈতন্য ছাত্রীকে। বাথরুমের মেঝেতে রাখা বালতির মধ্যে মাথাটা ঢুকে ছিল। আর দুহাতটা অসাড়ভাবে পড়েছিল। এরমধ্যে একটি হাতে হালকা আঁচড়ের দাগ। আঁতকে উঠেছিল অন্যান্য সহপাঠীরা। স্কুল ছুটির আগে তারা বাথরুমে গিয়েছিল। কিন্তু, সহপাঠিনীকে এভাবে পড়ে থাকতে দেখে সকলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাদের চিৎকারে ছুটে আসেন স্কুলের শিক্ষিকা ও শিক্ষকরা। তাঁদের চিৎকার চেঁচামেচিতে ছুটে আসেন স্কুলের অন্যান্য অশিক্ষক কর্মীরা। 

আরও পড়ুন- জিডি বিড়লা স্কুলের বাথরুমে আত্মঘাতী ছাত্রী, উদ্ধার সুইসাইড নোট

বালতি থেকে ছাত্রীটির মাথা টেনে বের করতেই আরও আবাক হওয়ার পালা সকলের। এই ছাত্রী তো দশম শ্রেণির। মেধাবী ছাত্রী বলেই স্কুলে তার পরিচিতি। ছোট থেকেই এই স্কুলে পড়ছে। পড়াশোনায় ভালো বলেই তার যে পরিচিতি আছে তা নয়, দশম শ্রেণিতে প্রথম দশে থাকা মেয়ে সে। তাকে এভাবে বাথরুম থেকে এভাবে উদ্ধার করতে হওয়ায় সকলেই তখন আতঙ্কে। কারণ, ছাত্রীর মুখে পড়ানো ছিল একটা প্লাস্টিকের প্যাকেট। আর যে বালতিতে তার মাথা ঢোকানো ছিল সেটা ছিল জলে ভর্তি। তার মানে প্লাস্টিকের মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে জলের মধ্যে মাথা ঢোকানোটা আসলে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা। এমন এক খতরনাক প্রচেষ্টা মৃত্যুকে ডেকে আনার জন্য! এটা ভেবেই শিউড়ে ওঠেন সেখানে উপস্থিত সকলে। 

ছাত্রীটিকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার বাঁ-হাতের শিরার উপরে আঁচড়ের দাগটা স্পষ্ট ছিল। চিকিৎসকদের সন্দেহ এটি কোনও ধরালো অস্ত্রেের আঁচড়। জানা গিয়েছে দশম শ্রেণির ছাত্রীটির শ্বাস হালকাভাবে পড়লেও কোনও সাড় ছিল না শরীরে। মেয়েটির কাছ থেকেই উদ্ধার করা হয় একটি তিন পাতার নোট। এই নোট পড়ে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে ছাত্রীটি আত্মঘাতী হয়েছে। কারণ ওই নোটে সে পরিষ্কারভাবে তার পরিবারের বিরুদ্ধে বেশকিছু কথা লিখে রেখেছে। ওই নোট থেকে নাকি জানা গিয়েছে ছাত্রীটি দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক স্তরে চাপে ছিল। বাবা-মা তাকে পড়াশোনার জন্য অত্যাধিক চাপ দিতেন বলেও লেখা রয়েছে সেই নোটে। ছাত্রীটি নাকি ওই নোটে এটাও লিখে গিয়েছে, স্কুলে মেধাবী ছাত্রী হওয়ার সত্ত্বেও চাপ কম ছিল না। 

তবে, পুলিশ এখনই এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে সরকারি বয়ান দিতে চাইছে না। পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েই পুলিশ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে। যার জন্য ঘটনার রিপোর্ট হতেই লালবাজার থেকে গোয়েন্দা বিভাগের অফিসাররা ছুটে আসেন। আনা হয় ফরেনসিক দলকেও। আত্মহত্যা না খুন তা বিস্তারিত তদন্তের পরেই জানা যাবে বলে দাবি করছে পুলিশ। কিন্তু, দশম শ্রেণির ছাত্রীটিকে যে ভাবে উদ্ধার করা হয়েছে তা ভয়ানক বলেই মানছে পুলিশ। ছাত্রীটি যদি নিজে আত্মঘাতী হয় তাহলে বুঝতে সে বহুদিন ধরেই প্রবল মানসিক চাপে ছিল, এমনই মত বেশকিছু মনোবিদদের। বাবা-মা কেন মেয়ের মনের অবস্থা বুঝতে পারলেন না তা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।