নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডি- লিট প্রদান অনুষ্ঠানেই বেনজির বিক্ষোভের মুখে পড়লেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়়। এ দিন নজরুল মঞ্চে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পৌঁছতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য এবং রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে কয়েকশো পড়ুয়া। এনআরসি এবং সিএএ সমর্থন করায় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়ারা। তাঁকে 'গো ব্যাক' স্লোগান দিতে শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। 

দীর্ঘক্ষণ গাড়ির মধ্যেই আটকে থাকতে হয় রাজ্যপালকে। এর পর কোনওক্রমে তাঁকে প্রেক্ষাগৃহের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও মঞ্চের সামনে প্রবল বিক্ষোভ শুরু হয়। রাজ্যপাল অনুষ্ঠানে থাকতে পারবেন না, এই দাবি জানাতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায় পৌঁছয় যে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের ডি- লিট প্রদান অনুষ্ঠানই আটকে যায়। শেষ পর্যন্ত উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে মঞ্চে এসে পড়ুয়াদের প্রতিশ্রুতি দেন, ডি- লিট প্রদান অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল থাকবেন না। এর পরেই কিছুটা শান্ত হন পড়ুয়ারা। 

এ দিন প্রথা মেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাজ্যপালের হাত দিয়েই অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যপাধ্যায়ের হাতে ডিলিট সম্মান তুলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সম্মান তুলে দেওয়া দূরে থাক, বিক্ষোভের জেরে অনুষ্ঠানে অংশ না নিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হন জগদীপ ধনখড়। এর আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানেও একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছিল রাজ্যপালের। সেখানেও বিক্ষোভের মুখে পড়ে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। আর এ দিন প্রেক্ষাগৃহে প্রবেশ করতে পারলেও অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারলেন না। 

রাজ্যপাল অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না, মঞ্চ থেকে উপাচার্য এই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেই মঞ্চের সামনের পথ ছেড়ে দেন পড়ুয়ারা। আচার্যের বদলে উপাচার্যই অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ডি- লিট সম্মান তুলে দেবেন বলে পড়ুয়াদের আশ্বস্ত করেন। এর পরই অনুষ্ঠান শুরু করতে দেন পড়ুয়ারা। কিছুক্ষণের মধ্যেই মঞ্চে না উঠে ফিরে যান রাজ্যপাল। তিনি বেরিয়ে যাওয়ার মুখেও পড়ুয়াদের আর এক দফা বিক্ষোভের মুখে পড়েন জগদীপ ধনখড়। আগাগোড়াই বিক্ষোভাকারীদের সরাতে সেভাবে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি পুলিশকে। রাজ্যপালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ জওয়ান এবং নিরাপত্তা কর্মীরা কোনওক্রমে পরিস্থিতি সামাল দেন।