সাত দিনের যুদ্ধের পরে শান্তিবৈঠক! সেই বৈঠকের মধ্যেই উঠল হাসির রোল। সৌজন্যে মুখ্যমন্ত্রীর চিকিৎসা অনুরাগ। জুনিয়র ডাক্তারদের অভাব অভিযোগ শুনতে শুনতে দাঁতের ডাক্তারিটাও সেরে ফেললেন ছোট করে। 

এদিন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও আন্দোলনে বিষয়টির সমাধানসূত্রের খোঁজে আয়োজিত বৈঠক চলাকালে, বর্ধমান ডেন্টাল কলেজের প্রতিনিধিরা বলেন, অক্সিজেনের পরিষেবা হাসপাতালে থাকা প্রয়োজন, অ্যাম্‌বুলেন্স এলেও ভাল হয়। তাঁদের দাবি ছিল, 'রোগীরা সময় দিতে  চায় না কিছুতেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরোটা শুনে বলেন, 'হাসপাতালের তরফ থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। রোগীকে বিষয়টা বুঝিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে সবটা লিখে প্রিন্ট দিন। বুঝিয়ে দিন কত সময় লাগে রুট ক্যানেলে।'  

এর পরেই সরাসরি পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, 'অনেক সময়ে চিকিৎসকেরা আমি দেখেছি চিকিৎসকেরা দাঁত দেখতে গিয়ে প্রেশার সুগার মাপেন না। ভুল করেন তাঁরা। অনেকে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে বিষয়টা চাপাও দিতে চান।' এই নিদান মনে করিয়ে দিচ্ছে পুরনো মমতাকে। তিনি অতীতেও বিরোধী দলনেত্রী হিসেবে রাজনীতির ময়দানে দাপিয়ে বেড়াবার সময়ে এক সাক্ষাৎকারে নানাবিধ ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে কথা বলেছিলেন। সেই পরামর্শের ভিডিও  হাসির ফোয়ারা ছুটিয়েছিলেন নেটদুনিয়ায়। তারপর গঙ্গা দিয়ে জল বয়েছে বিস্তর। সেদিনের বিরোধী দলনেত্রী আজ মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তাঁর অভিব্যাক্তই বলে দেয়, আজও ডাক্তারিটা ভালবাসেন তিনি।

এদিন ঘটনার পরে, মুহূর্তের মধ্যে সভাকক্ষে হাসির রোল ওঠে। অনেকটা হালকাও হয়ে যায় গুমোট পরিবেশ। বৈঠকের শেষ হওয়ার মুখে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের রসিকতা, একই সঙ্গে সক্রিয়তার আশ্বাস অনেকটাই আশ্বস্ত করল জুনিয়র ডাক্তারদের ।এদিন মোট ৩১ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজগুলি থেকে। প্রত্যেকের দাবিদাওয়া মন দিয়ে শুনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। চেষ্টা করেছেন নিদান দেওয়ার। আন্দোলনের দাবিদাওয়া বুঝে নিয়ে, এখন মান অভিমান ভুলে রাজ্যের মানুষের স্বাস্থ্যর দিকে তাকানোর সময়।