পুজোর আগেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর। ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সব সুপারিশ মেনে নিয়ে ডিএ ঘোষণা করতে চলেছে রাজ্য সরকার। এ দিন কলকাতায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের সম্মেলনে এই ঘোষণাই করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, যেহেতু এ দিনই ষষ্ঠ বেতন কমিশনের প্রথম পর্যায়ের রিপোর্ট হাতে পেয়েছেন, তাই ক্যাবিনেটে এই সুপারিশ শ করার পরেই ডিএ বৃদ্ধির হার ঘোষণা করবে সরকার। 

এ দিন নেতাজি ইন্ডোরে সরকারি কর্মীদের সম্মেলেন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি কর্মীদের ন্যূনতম মূল বেতন ১৭ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। গ্র্যাচুইটির ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে দশ লক্ষ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও বাড়ি ভাড়ার ভাতা-সহ যা যা সুবিধা বৃ্দ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের প্রথম পর্যায়ের রিপোর্টে, তার সবই মেনে নেওয়া হবে। ডিএ এবং পে কমিশন মিশে যাচ্ছে বলেও এ দিন জানিয়েছেন  মুখ্যমন্ত্রীর। যার ফলে আর্থিক দিক দিয়ে আরও লাভবান হবে সরকারি কর্মীরা। উদাহরণস্বরূপ মুখ্য়মন্ত্রী বলেন, '১০০ টাকা বেসিক পে থাকলে ১২৫ টাকা বেতন হত। ডিএ এবং পে কমিশন মিশে গেলে সেটাই ২৫৭ টাকায় গিয়ে দাঁড়াবে।' 

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১ জানুয়ারি, ২০০৬ অনুযায়ী কারও মূল বেতন ৭ হাজার টাকা হলে তা বেড়ে হবে ১৭,৯৯০ টাকা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ক্যাবিনেট বৈঠক রয়েছে। সম্ভবত সেই বৈঠকে বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুমোদন করানোর পরেই সরকারি ঘোষণা হবে। তখনই জানা যাবে, কী হারে ডিএ বাড়তে চলেছে রাজ্য সরকারি কর্মীদের। এ ছাড়াও আদালতে এই সংক্রান্ত এই মামলা চলার কারণে এ দিন ডিএ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও ঘোষণা করেননি মুখ্যমন্ত্রী। যত শীঘ্র সম্ভব এই সুপারিশ কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ১ জানুয়ারি থেকে সুপারিশ কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

মুখ্যমন্ত্রী জানান, নতুন এই সুপারিশ মানতে গেলে বছরে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা খরচ বাড়বে রাজ্য সরকারের। কিন্তু কর্মীরা নিজেদের মেধা দিয়ে কাজ করে তা পুষিয়ে দেবেন বলে আশাবাদী মমতা। 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই সরকারি পেনশন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। অনেক চাপ সত্ত্বেও তিনি রাজ্যের পেনশন প্রকল্প তুলে দেননি বলে দাবি করেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পেনশন প্রকল্প তুলে দিলে সরকারের পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা বেঁচে যেত বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার কর্মীদের পেনশন দেওয়ার নামে তাঁদের বেতন থেকেই ৮.৩৩ শতাংশ হারে টাকা কেটে নিয়ে শেয়ার বাজারে খাটাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'যদি শেয়ার বাজারে ধস নামে, তাহলে আপনার জীবনেও ধস নামবে। যখন ডিএ বাড়াচ্ছে, তার থেকে আবার ৮.৩৩ শতাংশ কেটে নিচ্ছে। কর্মীরা অবসর নেওয়ার সময় সেই টাকা ঠিকমতো জমা পড়েছে কি না, তা দেখতে হবে।'