PAC-র চেয়ারম্যান হলেন মুকুল রায়। উল্লেখ্য, কোন বিধানসভার শেষ দিনে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (PAC)চেয়ারম্যান সহ সব কমিটির চেয়ারম্যানদের নাম ঘোষণা করেন স্পিকার। শুক্রবারও অধিবেশেনের শেষ মুহূর্তে সেই দৃশ্যই ফিরল। তবে একেবারেই ভিন্নভাবে। মুকুল রায়ের নাম ঘোষণা হতেই তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয় বিধানসভায়।

আরও পড়ুন, 'মুর্শিদাবাদে কোথাও সন্ত্রাস হয়নি', জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেখে চাপ বাড়ল কি তৃণমূলের

 শুক্রবার স্পিকার বিমান বন্দ্য়োপাধ্যায় বলেন, চুয়ান্ন বছরের ইতিহাসে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (PAC)চেয়ারম্যান পদ চিরকালই বিরোধীরা পেয়ে এসেছে। তাই এবারও বিরোধীদের থেকেই মুকুল রায়কে করা হল।' আর এই ঘোষণার পরই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে বিধানসভা।  মুকুল রায়কে PAC-র চেয়ারম্যান করার বিরোধিতা করে অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করে বিজেপি। অপরদিকে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেছেন, কোনও বিষয়েই আলোচনার সুযোগ কেউ পায়নি। রীতি অনুযায়ী বিরোধী দল থেকেই পিএসি-র চেয়ারম্যান হয়। সরকারের খরচ করার যেমন অধিকার আছে, তেমনই বিরোধী দলের অধিকার আছে, সেই ব্যয় পরীক্ষা করে খতিয়ে দেখার। শাসক দল তার ক্ষমতা দেখিয়ে সেই রীতি ভঙ্গ করেছে।'

 আরও পড়ুন, কড়া নজরে রাজীব-সব্যসাচী, দল বিরোধি বক্তব্যের জেরে 'বহিষ্কার' করবে কি BJP


প্রসঙ্গত,  PAC-এর চেয়ারম্যান মুকুল রায়কে করা হতে পারে বলে আগে থেকেই আশঙ্কা ছিল গেরুয়া শিবিরের। তাই বরাদ্দ ১০ কমিটির চেয়ারম্যানের নামের তালিকা স্পিকার বিমান বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কাছে জমা দেয়নি তাঁরা। বিধানসভায় রয়েছে মোট ৪১ টি কমিটি। এর মধ্য়ে শাসক বিরোধীদের মধ্যে ১০ টি পাচ্ছে বিজেপি। PAC ছাড়া বাকি কমিটিগুলির চেয়ারম্যান পদের জন্য নামের চূড়ান্ত তালিকা তুলে দেয়নি বিজেপির পরিষদীয় দল। তাঁদের দাবি ছিল, আগে PAC-এর চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করা হোক। তারপর দেওয়া হবে তালিকা। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। উল্লেখ্য, এর আগে মানস ভুঁইয়া দলবদল করলেও  PAC-এর চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। তবে দলবদল করতলেও তিনি খাতায় কলমে এখনও কৃষ্ণনগর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক। তাই PAC-এর চেয়ারম্যান হয়ে ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত গড়লেন মুকুল রায়।