তৃণমূলের কোর্টে বল ঠেলে আবারও মুকুল রায়ের সঙ্গে বৈঠক করলেন সব্যসাচী দত্ত। বৈঠকের পরে সাংবাদিক সম্মেলন করে মুকুল দাবি করলেন, দাদা হিসেবে সব্যসাচীর অসুবিধায় পরামর্শ দিতে এসেছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, এখনও সব্যসাচী বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার আবেদন জানাননি। আর সব্যসাচী সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে প্রশ্ন করলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নরেন্দ্র মোদীকে মিষ্টি, পাঞ্জাবি  পাঠাতে পারলে তিনি মুকুল রায়কে আপ্যায়ন করতে পারবেন না কেন?

এ দিন দুপুরেই বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তকে বাদ দিয়ে বিধাননগরের কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক করেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সেই বৈঠক থেকেই ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়কে মেয়রের দায়িত্ব সামলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সব্যসাচীকে কাউন্সিলরদের মতামত তৃণমূল নেত্রীকে জানানো হবে বলে জানান পুরমন্ত্রী।

আরও পড়ুন- মেয়র পদ হয়তো হারাচ্ছেন সব্যসাচী, কড়া পদক্ষেপ তৃণমূলের

এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ দিন রাতে সল্টলেকের একটি ক্লাবে সব্যসাচীর সঙ্গে দেখা করতে যান মুকুল। এর পরে দু' জনে একসঙ্গে খাওয়া দাওয়াও করেন। সাংবাদিক সম্মেলন করে মুকুল দাবি করেন, দাদা হিসেবে সব্যসাচীকে এ দিন তিনি কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তবে কী পরামর্শ তা তিনি বলেননি। উল্টে সব্যসাচীর বিরুদ্ধে তৃণমূলের ব্যবস্থা গ্রহণকে কটাক্ষ করে মুকুল বলেন, 'তৃণমূল দলটা কীভাবে চলে আমার থেকে ভাল কেউ জানে না। আপনারা লিখে নিন, ২০২১ সালে তৃণমূল বিরোধী দলের মর্যাদা পাবে না।'

মুকুলের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে সব্যসাচী বলেন, 'সংবাদমাধ্যমে মুকুলদা দেখেছেন বিধাননগর পুরসভায় কিছু সমস্যা হয়েছে। তাই আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। আমি দলের তরফে এখনও কোনও চিঠি পাইনি, কোনও বার্তাও দেওয়া হয়নি। কেউ কোনও নির্দেশ দিতেই পারে, যতক্ষণ মেয়র আছি, দায়িত্ব পালন করে যাব। আমার বাড়িতে কেউ এলে আমি সৌজন্য দেখাবোই।'

এর পরেই সব্যসাচী বলেন, 'আমার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে পাঞ্জাবি, মিষ্টি পাঠান। এই সৌজন্য বাঙালির চিরকালের ঐতিহ্য। আপনারা যত চেষ্টাই করুন না কেন, আমি সেই সৌজন্য নষ্ট হতে দেব না।'

দলের প্রতি সব্যসাচীর আনুগত্য নিয়ে বার বার প্রশ্ন করা হচ্ছে। তা নিয়েও এ দিন সব্যসাচীর পাশে বসেই মুকুল বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গিয়ে প্রশ্ন করুন, কেন তাঁর পাড়ায়, তাঁর ওয়ার্ডে তৃণমূল হেরে গিয়েছে?' আর সব্যসাচী বলেন, 'আমি পিছন থেকে ছুরি মারি না। আমার বিধানসভায় তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে। তা নিয়ে আমি গর্বিত। কিন্তু যেখানে বসে আছি সেই বিধাননগরে যিনি ভোটের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁর বিধানসভা তো বটেই, তিনি যেখানে নিজে ভোট দিয়েছেন, সেই পার্টেও দল হেরেছে।'

এতদিন তৃণমূল এবং সব্যসাচীর মধ্যে যে চাপা লডড়াই চলছিল, তা এ দিনের পরে প্রকাশ্যে চলে এল। যেভাবে মুকুল রায় সব্যসাচীকে পাশে বসিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন, তাতে এর পর আর সব্যসাচীর বিরুদ্ধে চরম কোনও পদক্ষেপ করা ছাড়া উপায় থাকল না তৃণমূলের হাতে। সব্যসাচী দত্ত এবং মুকুল রায়ও সম্ভবত সেটাই চাইছেন। তৃণমূলের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।