নারদা মামলায় অবশেষে স্বস্তি। রাজ্যের চার নেতা মন্ত্রীকে অবশেষে অন্তবর্তী জামিন দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হামিক, সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও কামারহাটির তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মদন মিত্রের সঙ্গে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলেন কলকাতা পুরভার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। প্রত্যেককেই শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। প্রত্যেককেই দু-লক্ষ টাকা ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে , ভিডিও কনফারেন্সিংএর মাধ্যমে মামলার তদন্তে তাঁদের সামিল হতে হবে। একই সঙ্গে এই মামলা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামন কোনও মন্তব্য করা চলবে না।  আদালত সূত্রের খবর পাঁচ বিচারপতিই জামিনের পক্ষে মত দিয়েছেন। 


নারদ মামলায় আচমকাই সিবিআই একই সঙ্গে গ্রেফতার করেছিল রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে। তাঁদের সঙ্গেই গ্রেফতার করা হয়েছিল কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র ও কলকাতার পুরসভার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্য়ায়কে। শোভন চট্টোপাধ্যায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। যদিও বিধানসভা ভোটের আগেই তিনি  ও তাঁর বান্ধবী বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। কিন্তু তারপর থেকেই উত্তাল হয়েছিল রাজ্যরাজনীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধৃতদের পাশে দাঁড়িয়ে দিনভর নিজাম প্যালেসে সিবিআইএর অফিসে ধর্না দিয়েছিলেন। বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল তৃণমূল কর্মী সমর্থক। 

তারপর অবস্য গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে । সিবিআই বিশেষ আদালত, হাইকোর্ট হয়ে মামলা গিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল তারা নারদ মামলা শুনবে না। তরপর আবারও হাইকোর্টেই ফিরে আসে নারদ মামলা। এদিন শুনানির সময়  কেন্দ্রের সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা ধৃতদের জামিন না দেওয়ার পক্ষেই সওয়াল করেন। জামিন না দিতেও অনুরোধ করেন আদালতে। আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল আগে যখন গ্রেফতার করা হয়নি তখন এখন গৃহবন্দি করে রাখা অর্থহীন। আগেই এঁরা প্রভাবশালী ছিলেন, তখন কেন গ্রেফতার করা হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।  বিপর্যয়ের সময় মানুষের পাশে থাকা আর কাজ করাই জরুরি।