স্থলপথে প্রতিবাদ হয়েছে আগেই। এবার  সিএএ-র বিরুদ্ধে জলপথে হল অভিনব প্রতিবাদ। এনআরসি ও নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় গঙ্গাবক্ষে সাঁতার কেটে প্রতিবাদ করলেন মুকেশ গুপ্তা নামে এক সাঁতারু। তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে এই অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে হতবাক হলেন অনেকেই।

স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে বেলুরমঠে সিএএ নিয়ে বক্তব্য় রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণের পাল্টা দিতে জলপথে প্রচারে নামল তৃণমূল। এদিন বেলুড়মঠ জেটি ঘাট থেকে হাওড়া রামকৃষ্ণপুর ঘাট পর্যন্ত সাঁতার কেটে প্রতিবাদ জানান মুকেশ। একইসঙ্গে সেইসময় লঞ্চে একই পথে যান সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায় ও তৃণমূল কর্মীরা। এদিন লঞ্চ থেকেই জলে ঝাঁপ দেন মুকেশ।  

 নতুন নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ এ বার জলপথে। যে পথে মোদী কলকাতা থেকে বেলুড় এসে নাগরিকত্ব আইনের প্রচার করে গেলেন, সেই পথ সাঁতরে হল প্রতিবাদ। এনআরসি, সিএএ-র প্রতিবাদে আজ বেলুড় মঠ লঞ্চ ঘাট থেকে হাওড়া রামকৃষ্ণপুর ঘাট পর্যন্ত সাঁতরে গেলেন এক যুবক। সকাল ৯টায় অনুষ্ঠানের সূচনা করেন মাননীয় মন্ত্রী অরূপ রায়। এনআরসির বিরোধিতায় গঙ্গাবক্ষে ১২ কিলোমিটার সাঁতার কেটে প্রতিবাদ করেন সাঁতারু। সঙ্গে লঞ্চে উৎসাহ দিতে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অরূপ রায়।

বেলুড়মঠের যে ঘাট থেকে বেলুড় মঠে গিয়ে এনআরসির পক্ষে সওয়াল করেছিলেন  নরেন্দ্র মোদি,আজ সেই ঘাট টিকেই  এনআরসি বিরোধিতার জন্য বেছে নিল তৃণমূল। অভিনব প্রতিবাদে ২১ বছরের সাঁতারুর মুকেশের। সামিল হলেন মন্ত্রী অরূপ রায়। বেলুড়মঠে এসে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে এনআরসি নিয়ে সওয়াল করেছেন তার বিরুদ্ধে মন্ত্রী এবং সাঁতারু প্রতিবাদ জানালেন একেযোগে। 

রাজ্য়ে সিএএ নিয়ে পথে নেমেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় অগ্নিগর্ভ হয়েছে রাজ্য় । এদিন মোদীর সিএএ সমর্থনের পাল্টা দিল তৃণমূল কংগ্রেস। বেলুড় মঠে মোদীর নাগরিকত্ব মন্তব্য় নিয়ে ঝড় উঠেছে রাজ্য়ে । ধর্মীয় স্থানে দাঁড়িয়ে মোদীর এই ভাষণের সমালোচনা করেছেন অনেকেই। তবে মোদীকে দেশের অন্যতম সেরা প্রধানমন্ত্রী বলায় পাল্টা বেলুড় মঠের 'অরাজনৈতিক ভূমিকা' নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কোন  ভিত্তিতে মোদী 'দেশের সেরা প্রধানমন্ত্রী' সেই প্রশ্নের জবাব দিতে প্রশ্নবানে জর্জরিত বেলুড়। 

ধর্মীয় মঞ্চ থেকে মোদীর নাগরিকত্ব আইন নিয়ে প্রচারের নিন্দা করছেন বিরোধীরা। বিরোধীদের অভিযোগ, বেলুড় মঠের মতো জায়গাকে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসাবে ব্য়াবহার করে ঠিক করেননি প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্য়মে বেলুড় মঠের ভাবমূর্তিতে দাগ লেগেছে। যদিও বিরোধীদের এই প্রশ্নের উত্তরে অন্য কথা বললে মঠ কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় যুব দিবসে বেলুড় মঠের ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা যায় সিএএ প্রসঙ্গ। যা নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্য়ায় বলেছেন, নিজেকে লজ্জিত মনে হচ্ছে। আমার মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে। মঠকে রাজনৈতিকে আখড়া হিসেবে ব্যবহার করেছে প্রধানমন্ত্রী। আমি এই কথা পরবর্তীকালেও তুলব। বেলুড় মঠের সভামঞ্চ ব্যবহার করে তিনি রাজনীতির করেছে এটা অত্যন্তই লজ্জার বিষয়।