পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে সরানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হোক রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়-কে। সোমবার (৬ জানুয়ারি), এই মর্মেই একটি পিটিশন দাখিল করা হল সুপ্রিম কোর্টে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘ-এর তত্ত্বাবধানে গণভোট আয়োজন করার কথা বলায় মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এই আবেদন করেছেন জনৈক সাংবাদিক বরাকি। এদিন আদালতে তাঁর হয়ে পিটিশনটি দাখিল করেন আইনজীবী দিব্যজ্যোতি সিং।

এই আবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর রাষ্ট্রসংঘ মন্তব্যের মধ্য দিয়ে 'গোপনীয়তা রক্ষার শপথের অবমাননা' করেছেন। এই কারণে তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করার জন্য রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়-কে নির্দেশ দেওয়ার জন্য আদালতকে অনুরোধ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে ভারতের অভ্যন্তরীণ এক বিষয়ে একটি বাইরের সংস্থার হস্তক্ষেপ চাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের যথাযথ নিন্দা করেছেন রাজ্যপাল।

গত ১৯ ডিসেম্বর, কলকাতায় নাগরিকত্ব আইন বিরোধী সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের হস্তক্ষেপে গণভোট করার দাবি তোলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনগণকে সত্যিই এই আইনটি গ্রহণ করছে কি না, তা জানার জন্য এই আইন-কে জনগণের ভোট নেওয়ার চ্যালেঞ্জ করেছিলেন তিনি। এই আইনটির বিরুদ্ধে তার আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিংসাত্মক প্রতিবাদ দেখা গিয়েছিল।

প্রায় সঙ্গে-সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের আবেদন করেন। এক টুইটার পোস্টে ধনখড় বলেন, দেশের একজন নাগরিক হিসাবে তিনি মমতা-র বক্তব্যে 'দু: খিত ও বেদনাহত'। একইসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর অনুরোধ অবশ্যই বিবেচনা করবেন, কারণ মুখ্যমন্ত্রী কেন ভারতের কোনও নাগরিকেরই কখনও ভারতের জাতীয়তাবাদের সঙ্গে আপস করা উচিত নয় বলে জানিয়েছিলেন রাজ্যপাল।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত ২২ ডিসেম্বর দিল্লিতে এক জনসভায় অনুপ্রবেশকারী বিষয়ে তাঁর আকস্মিক অবস্থানের পরিবর্তন নিয়ে মমতা-কে কটাক্ষ করেন। ২০০৫ সালে মমতা লোকসভায় ইউপিএ সরকারকে প্রশ্ন করেছিলেন, কেন বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়টি উপেক্ষা করা হচ্ছে। তিনি এই বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের দ্বারস্থ হওয়ার জন্য মমতাকে একহাত নেন।