কেরল, পঞ্জাব রাজস্থানের পথেই হাঁটতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। সোমবার তৃতীয় রাজ্য হিসেবে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯-এর বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের একটি প্রস্তাবনা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় উপস্থাপন করা হবে। সিএএ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হবে সেই প্রস্তাবনায়। গত সপ্তাহে উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার পথেই এই প্রস্তাবনা আনার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

নাগরিকত্ব আইন নিয়ে দেশ জুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে। অবিজেপি বহু রাজ্যই সিএএ কার্যকর করবে না ববলে জানিয়ে দিয়েছে। প্রথম রাজ্য হিসেবে সিএএ বাতিলের দাবিতে বিধানসভায় প্রস্তাব এনেছিল কেরলের বাম সরকার। সে রাজ্যের একমাত্র বিজেপি বিধায়ক ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজাগোপাল ছাড়া কেরলের সরকার পক্ষের ও বিরোধীদের সব বিধায়কই সেই প্রস্তাবনার পক্ষেই ভোট দিয়েছিলেন। তারপর বিহারের নীতিশ কুমার-সহ দেশের সমস্ত অবিজেপি রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে সেইরকম প্রস্তাবনা পাস করার আহ্বান জানিয়েছিলেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।

কেরলের পর নাগরিকত্ব আইন বিরোধী প্রস্তাবনা পাস হয় কংগ্রেস শাসিত পঞ্জাবে ও অতি সম্প্রতি রাজস্থান-এও। সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে নোট পাঠিয়ে আইনের বেশ কয়েকটি জায়গায় পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়। এবার সেই তালিকায় নাম উঠতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গেরও।

উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারিই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নাগরিকত্ব আইন বিরোধী প্রস্তাব আনার দাবি তুলেছিলেন বিরোধীরা। কিন্তু, সেই সময় এই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে রাজি হননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর যুক্তি ছিল, তার আগের দিনই ভারত বনধ-এ কংগ্রেস ও বামেরা রাজ্যে সিএএ বিরোধিতার নামে হিংসা চালিয়েছে। তিনি হিংসা সমর্থন করেন না। ওই দিনই তিনি জানিয়েছিলেন সিএএ বিরোধী আন্দোলনে বিরোধীদের জোটে তিনি থাকবেন না, একাই লড়বেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলেছিলেন সিপিএম-কংগ্রেস তাঁর শুরু করা আন্দোলন দখল করে নিচ্ছে বলে ভয় পাচ্ছেন মমতা।

এদিন সরকারের পক্ষ থেকে সিএএ বিরোধী প্রস্তাব আনা হলে, বিরোধীরা তা সমর্থন করেন নাকি বিরোধিতা করেন সেটাই দেখার। বিধানসভার বিজেপি-র ১৪জন বিধায়ক যে বিরোধিতা করবেন তা বলাই বাহুল্য।