তৃণমূলের সঙ্গে এবার সরাসরি কথা লড়াইতে জড়ালেন বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত। এ দিনই সব্যসাচীকে দল মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিতে বলেছে বলে খবর। পুরমন্ত্রী ফোনে সব্যসাচীকে এই নির্দেশ দেন বলে সূত্রের খবর। পরে সব্যসাচীকে 'মীরজাফর' বলেও কটাক্ষ করেন ফিরহাদ। 

সব্যসাচী অবশ্য পাল্টা ফিরহাদ হাকিমকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি। তাঁর সাফ কথা, পদত্যাগের নির্দেশ তাঁকে লিখিত আকারে জানাতে হবে। পাল্টা পুরমন্ত্রীকেও 'বেইমান' বলে বিঁধেছেন বিধাননগরের মেয়র। 

আরও পড়ুন- সব্যসাচীকে পদত্যাগ করতে বলল তৃণমূল, লিখিত নির্দেশ চান বিধাননগরের মেয়র

তিনি  যে এখনই পদত্যাগ করছেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সব্যসাচী। এ দিন তিনি বলেন, 'সবকিছুর ন্যূনতম একটা ভদ্রতা আছে। আগে লিখিত নির্দেশ আসুক, তার পরে তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেব। শ্রমিকের স্বার্থে দাঁড়ানো বেইমানি হলে তা আগেও করেছি, আবার করব। সরকারি কর্মচারীরা ডিএ পাচ্ছেন না, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোটা বেইমানি হলে যে কোনও শাস্তি মাথা পেতে নেব।' 

বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে রবিবার রাতে তাঁর বৈঠকের পরেই কড়া কপদক্ষেপ করেছে তৃণমূল। তার আগে গত সপ্তাহে বিদ্যুৎ ভবনে গিয়ে সরকারি কর্মীদের ডিএ বাড়ানোর দাবি নিয়ে সরকারকে হুঁশিয়ারিও দেন সব্যসাচী। এ দিন ফিরহাদ হাকিম বলেন, 'যারা দেশের শত্রু, তারা আমাদেরও শত্রু। দল থেকে বিধায়ক, মেয়র পদে থেকে আমাদের প্রধান শত্রুর সঙ্গে কীসের বন্ধুত্ব। তাঁর উচিত ছিল পদত্যাগ করে এসব করা। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁকে মীরজাফর বলে ডাকবে। সব্যসাচীর আচরণে শুধু দল নয়, আমি ব্যক্তিগত ভাবে অপমানিত এবং ব্যথিত।'

সব্যসাচী অবশ্য এখনও নিজের অবস্থানেই অনড়। তাঁর পাল্টা দাবি, ব্যক্তিগতভাবে যে কেউ কারো সঙ্গে দেখা করতেই পারেন।  সব্যসাচী বলেন,  'মুকুল রায় দাদা হিসেবে আমার কাছে এসেছিলেন। উনি আমায় কিছু পরামর্শ দিতে আসেন। কারো সঙ্গে কারো কথা বলা যদি বেইমানি হয়, তাহলে যিনি বলছেন তিনি কতটা বেইমান, সেই প্রশ্ন উঠবে।' সব্যসাচী এ দিন সাংবাদিকদের সামনে আরও দাবি করেন. প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে কথা বলা যদি বেইমানি না হয়, তাহলে মুকুল রায়ের সঙ্গে কথা বলাও বেইমানি নয়। 

সব্যসাচী দত্ত যেহেতু মেয়র পদে রয়েছেন, তাই নিয়ম মেনে সব্যসাচী নিজে থেকে ইস্তফা না দিলে জটিলতা বাড়বে। সেক্ষেত্রে সব্যসাচীর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে হবে দলীয় কাউন্সিলরদের। কিন্তু এই মুহূর্তে সব্যসাচী দত্তকে বাদ দিয়ে বিধাননগরের ৩৮ জন তৃণমূল কাউন্সিলরের মধ্যে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর সব্যসাচী দত্তের পক্ষে রয়েছেন।  তিনি যে সেই চ্যালেঞ্জের জন্য তৈরি, এ দিন তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন সব্যসাচী।