মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে এবং নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে সৌজন্যের সম্পর্ককে হাতিয়ার করেই তাঁর সঙ্গে মুকুল রায়ের ব্যক্তিগত সম্পর্কের পক্ষে সওয়াল করলেন বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত। মুকুল রায়ের সঙ্গে রবিবার রাতে বৈঠকের পরেই সব্যসাচীর এই মন্তব্যে প্রশ্ন উঠছে, এবার কি সরাসরি দলনেত্রীকেই ঘুরিয়ে নিশানা করছেন সব্যসাচী?

এ দিন রাতে সল্টলেক সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনের ক্লাবে মুকুল রায়ের সঙ্গে দেখা করে সব্যসাচী দত্ত। তার পরে একসঙ্গে নৈশভোজও সারেন তাঁরা। সাংবাদিকদের প্রশ্ন মুকুল এবং সব্যসাচী দু' জনেই দাবি করেন, দাদা হিসেবে বিধাননগরের মেয়রকে 'পরামর্শ' দিতে এসেছেন বিজেপি নেতা। বেসরকারি ক্লাবে যে কেউ কারো সঙ্গে দেখা করতে আসতেই পারেন বলে দাবি করেন সব্যসাচী। 

আরও পড়ুন- সব্যসাচীর সঙ্গে ডিনার সারলেন মুকুল, 'ভাইকে' পাশে বসিয়ে মমতাকে নিশানা 'দাদার'

মুকুল রায়ের সঙ্গে বৈঠক করে আবারও তিনি দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ করলেন কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে সব্যসাচী বলেন, ব্যক্তিগত সৌজন্য থেকে তিনি সরবেন না। মুকুলের 'পরামর্শ' পাওয়ার পরেই ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে এ দিন তিনি বলেন, 'আমার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে পাঞ্জাবি, মিষ্টি পাঠান। এই সৌজন্য বাঙালির চিরকালের ঐতিহ্য। আপনারা যত চেষ্টাই করুন না কেন, আমি সেই সৌজন্য নষ্ট হতে দেব না।' সব্যসাচীর এই মন্তব্যে যে তাঁর দল এবং তৃণমূল নেত্রীর অস্বস্তি বাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। 

এ দিন মুকুল রায় যখন তাঁর পাশে বসেই তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করছেন, তখনও সরাসরি তাঁর বিরোধিতা করতে শোনা যায়নি সব্যসাচীকে। উল্টে মুকুলকে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, দল থাকে মেয়রের পদ থেকে সরিয়ে দিতে পারে বলেও যে সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে, তাকেও বিশেষ আমল দেননি বিধাননগরের মেয়র।