সম্ভবত বিধাননগরের মেয়র পদ হারাতে চলেছেন সব্যসাচী দত্ত। আপাতত ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়কে মেয়রের দায়িত্ব সামলাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এ দিন তৃণমূল ভবনে বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে এমনই নির্দেশ দিয়েছেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও দলের তরফে কোনও ঘোষণা করা হয়নি। বৈঠকে কাউন্সিলররা কী জানিয়েছেন, তা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। 

সব্যসাচী দত্তকে নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার জেরে এ দিন বিধাননগর পুরসভার  কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে বসেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এই বৈঠকে সব্যসাচী দত্তকে ডাকা হয়নি। আবার সব্যসাচী দত্তের বিরোধী গোষ্ঠীর বলে পরিচিত বিধাননগরের বিধায়ক এবং দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। মোট আটত্রিশজন তৃণমূল কাউন্সিলরের মধ্যে এ দিনের বৈঠকে হাজির হন ছাব্বিশ জন। তাঁরা সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন। পুরমন্ত্রীর কাছেও একই অভিযোগ করেন তাঁরা। বৈঠকে হাজির কাউন্সিলরদের কথা শুনে ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়কে মেয়রের দায়িত্ব সামলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তাপস চট্টোপাধ্যায় বিধায়ক সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। 

তবে সব্যসাচীকে আপাতত শুধু মেয়র পদ থেকেই সরানো হবে, নাকি তাঁর বিরুদ্ধে আরও কড়া কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকের শেষে পুরমন্ত্রী বলেন, 'আমি বিধাননগরের সব কাউন্সিলরদের ডেকেছিলাম পুরসভার কাজকর্ম নিয়ে। বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাঁদের মতামত জানা হয়েছে। দলনেত্রীর কাছে গিয়ে আমি তা জানাব।' ফলে রবিবার সন্ধ্যাতেই সব্যসাচীর ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যেতে পারে। 

গত শুক্রবার বিদ্যুৎ কর্মীদের বিক্ষোভ সমাবেশে গিয়ে বিদ্যুৎ কর্মীদের জন্য দাবি পূরণের জন্য হুঁশিয়ারির সুরে সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন সব্যসাচী দত্ত। কটাক্ষ করেছিলেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। এমন কী, দলবিরোধী বলে ব্যবস্থা নিলেও তাঁর কিছু যায় আসে না বলে সেদিন দাবি করেছিলেন সব্যসাচী দত্ত। এর পরেই সব্যসাচীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার পথে এগোয় দলীয় নেতৃত্ব।