অনাস্থা ভোটে হেরে গেলে তিনি সাধারণ কাউন্সিলর হিসেবেই শেষ দিন পর্যন্ত থাকবেন। এমন কী, বিজেপি-তেও তিনি যাচ্ছেন না বলে দাবি করলেন বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত। একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জের সুরে তিনি বলেন, 'গোপন ব্যালটে ভোট হবে, দেখা যাক কী হয়। অনাস্থায় হেরে যেতেই পারি।'

বিধাননগরের মেয়রকে এ দিন প্রশ্ন করা হয়, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনি কথা বলেননি কেন? জবাবে সব্যসাচী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডাকলেই তিনি কথা বলতে রাজি। এ কথা বলেও ইঙ্গিকপূর্ণভাবে সব্যসাচী দত্ত বললেন, 'মুখ্যমন্ত্রী ব্যস্ত মানুষ। ওনাকে রাজ্য সামলাতে হয়। ভোটের আগে বিভিন্ন দলের সঙ্গে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছে। ওনার হয়তো সময় হয়নি।' সব্যসাচীর এই মন্তব্যে অনেকেই কটাক্ষের সুর খুঁজে পাচ্ছেন। কারণ লোকসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহাজোট তৈরির চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। এ নিয়ে বিজেপি নেতারাও অনেকটা একই সুরে তৃণমূলনেত্রীকে কটাক্ষ করেছেন।

এর আগেও গত রবিবার মুকুল রায়ের সঙ্গে বৈঠকের পরে সব্যসাচী প্রশ্ন করেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে পাঞ্জাবি পাঠিয়ে যদি সৌজন্য দেখাতে পারেন তাহলে মুকুল রায় তাঁর কাছে এলে তিনি কেন সৌজন্য দেখাবেন না। 

আরও পড়ুন- প্রশান্ত কিশোরকে কোটি কোটি টাকা কীভাবে দিচ্ছে তৃণমূল, প্রশ্ন সব্যসাচীর, দেখুন ভিডিও

বিধাননগরের মেয়র অবশ্য এ দিন তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে মন্তব্য করেছেন, তিনি বিজেপি-তে যাচ্ছেন না। বিজেপি-র কোনও নেতাও তাঁকে ফোন করেননি। উল্টে তৃণমূলের অনেক বিধায়ক এবং সাংসদ তাঁকে ফোন করেছেন বলে দাবি করেন বিধাননগরের মেয়র। তাঁর কথায়, সেই তালিকা দেখলে অনেকেই অবাক হয়ে যাবেন। 

এ দিন সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে মোট ৩৫ জন তৃণমূল কাউন্সিলর অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেন। সেই প্রস্তাব ইতিমধ্যেই পুরসভার চেয়ারপার্সন কৃষ্ণা চক্রবর্তীর কাছে জমা পড়েছে। কটাক্ষের সুরে সব্যসাচী বলেন, 'আমি তো ভেবেছিলাম ৪০ জন কাউন্সিলরই সই করবেন।'