নারদা কাণ্ডে মুখ খুললেন প্রাক্তন পুলিশ কর্তা এসএমএইচ মির্জা। আর মুখ খুলেই প্রভাবশালীদের উপরে চাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন প্রাক্তন পুলিশ কর্তা। এ দিন কলকাতায় আদালতে জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পরে মির্জা বলেন, 'সাড়ে তিন বছর ধরে অনেক কিছু মনের মধ্যে অনেক কিছু চেপে রাখা ছিল। গত দু' তিন দিনে সব সত্যি বলেছি।'

সোমবারই ব্যাঙ্কশাল আদালতে ধৃত পুলিশকর্তার জামিনের আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। যদিও, শুনানি শেষে রায় দেননি বিচারক। উল্টে সিবিআই-এর আবেদনে সাড়া দিয়ে মির্জাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। আদালত থেকে বেরনোর সময় ধৃত পুলিশকর্তা বলেন, 'সাড়ে তিন বছর ধরে অনেক কিছু মনের মধ্যে অনেক কিছু চেপে রাখা ছিল। মানুষ আমাকে ভুল ভেবেছে। কিন্তু যাঁরা আমাকে চেনেন, আমার সহকর্মী, তাঁরা জানেন আমি কী ধরনের মানুষ। গত দু' তিন দিনে নিজেকে অনেক হাল্কা লাগছে। সব সত্যি কথা বলেছে, গোটাটাই ভিডিওগ্রাফ হয়েছে। বাদ বাকি তদন্ত চলছে, আইন আইনের পথে চলবে। কী হবে, আপনারা সব জেনে যাবেন।'

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মির্জা অবশ্য স্বীকার করে নেন, তিনি মুকুল রায়কে টাকা দিয়েছিলেন। 

এ দিন সিবিআই-এর আইনজীবী আদালতের কাছে মির্জাকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর আবেদন জানান। সিবিআই-এর তরফে যুক্তি দেওয়া হয়, প্রভাবশালী হওয়ায় জামিন পেয়ে গেলে তদন্ত প্রভাবিত করতে পারেন ধৃত পুলিশকর্তা। পাল্টা এসএমএইচ মির্জার আইনজীবী দাবি করেন, বর্তমানে চাকরি থেকে সাসপেন্ড রয়েছেন মির্জা। সিবিআই-কেও নারদা কাণ্ডে সবরকম সহযোগিতা করেছেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত সিবিআই-এর আবেদনেই সাড়া দেন বিচারক। 

প্রসঙ্গত গত বৃহস্পতিবার নারদা কাণ্ডে এসএমএইচ মির্জাকে গ্রেফতার করে সিবিআই। এর পরে গত শনিবার বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে মির্জার মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হয়। রবিবার সকালে মির্জাকে নিয়ে মুকুল রায়ের ফ্ল্যাটে হানা দেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। সেখানে নারদা কাণ্ডের আর্থিক লেনদেনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়। অভিযোগ ওই ফ্ল্যাটেই মির্জার মাধ্যমে নগদ নিয়েছিলেন মুকুল। যদিও সেই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন বিজেপি নেতা। 

নারদা কাণ্ডে প্রভাবশালীদের চাপে ফেলতে যে মির্জাকে অস্ত্র করছে সিবিআই, তা ইতিমধ্যেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই অবস্থায় কোনওভাবেই মির্জাকে হাতছাড়া করতে চান না নারদের তদন্তকারী অফিসাররা।