ভাইফোঁটাকে  কেন্দ্র করেই কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের দূরত্ব কমল? ভাইফোঁটা উপলক্ষে এ দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হাজির হন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বিজেপি- তে যোগ দেওয়ার পরে শোভনের মমতার বাড়িতে ফোঁটা নিতে যাওয়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। বিজেপি-তে যোগ দিলেও দলের সঙ্গে শুরু থেকেই দূরত্ব বাড়ছিল শোভন- বৈশাখীর। ফলে এ দিন শোভন ফোঁটা নিতে মমতার বাড়িতে যাওয়ার মধ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ থাকতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। 

আরও পড়ুন- অমর্যাদার অভিযোগ, দল ছাড়তে চেয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে চিঠি শোভন-বৈশাখীর

আরও পড়ুন-ভাত- ডাল থেকে পরকীয়া, বিজেপি-তে গিয়ে কী কী সইতে হচ্ছে শোভন- বৈশাখীকে

২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। এর ঠিক দু' দিনের মাথায় কলকাতার মেয়র পদ থেকেও ইস্তফা দেন তিনি। এর অনেক আগে থেকেই অবশ্য একটা ঘনিষ্ঠ শোভনের সঙ্গে মমতার সম্পর্কে চিড় ধরেছিল। সৌজন্যে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শোভনের 'বন্ধুত্ব' এবং স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক কেচ্ছা। মন্ত্রিত্ব এবং মেয়র পদ ছাড়ার পরে দীর্ঘদিন কার্যত রাজনীতি থেকে দুরে ছিলেন শোভন। তবে কলকাতার পুরসভার কাউন্সিলর এবং বেহালা পূর্বের বিধায়ক পদ ছাড়েননি তিনি। শোভনের বিজেপি-তে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়তেই তাঁকে দলে ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছিল তৃণমূল। পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিজে শোভনের বাড়িতে গেলেও নিজের সিদ্ধান্ত বদলানানি কলকাতার প্রাক্তন মেয়র। 

দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি-তে যাওয়ার জল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত গত ১৪ অগাস্ট দিল্লিতে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি-তে যোগ দেন  শোভন। বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার দিন থেকেই অবশ্য দেবশ্রী রায়কে নিয়ে নতুন দলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন শোভন চট্টোপাধ্যায়। রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের কটাক্ষও শুনতে হয় শোভন- বৈশাখীকে। এই পরিস্থিতিতে শোভন- বৈশাখী বিজেপি ছেড়ে দেবেন বলেও জল্পনা ছড়িয়েছিল। শোভন- বৈশাখী দিল্লিতে ডেকে আলোচনা করেন মুকুল রায়। কিন্তু তার পরেও পরিস্থিতি বদলায়নি। বরং বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পরেও দলের কোনও কর্মসূচিতেই দেখা যায়নি  শোভন- বৈশাখীকে। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবর যাঁদের ভাইফোঁটা দেন, তাঁদের মধ্যে শোভন থাকতেন প্রথমসারিতে। এ হেন স্নেহের কানন বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেছিলেন। কিন্তু রাজনীতিতে কোনও কিছুই চিরকালীন নয়। তাই নতুন সম্ভাবনা উস্কে দিয়ে ফের আগের মতোই মমতার বাড়িতে ফোঁটা নিতে গেলেন শোভন। যে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শোভনের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে মমতারও আপত্তি ছিল বলে শোনা যায়, সেই বান্ধবীকে নিয়েই এ দিন কালীঘাটে হজির হলেন কানন।