বাংলার মাটিকে প্রণাম করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ শহিদ মিনারের জনসভায় তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। কিন্তু তারপরই সরাসরি নিশানা করেন রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে। দু-দিন আগে  বৈঠক করলেও রবিবার বিজেপির জনসভা থেকে তিনি সরাসরি নিশানা করেন  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি বলেন বিজেপির লক্ষ্য বাংলার বিধানসভা। আগামী নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই বিজেপি বাংলায় ক্ষমতা দখল করবে বলেও আশাবাদী অমিত শাহ। তিনি বলেন আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে জয় যুক্ত করলে পাঁচ বছরের মধ্যেই সোনার বাংলা ফিরিয়ে দেবে গেরুয়া শিবির। 

বর্তমানে বাংলার বাসিন্দাদের মাথায় কোটি কোটি টাকা ঋণের বোঝা রয়েছে। কিছুটা দেনা বামেদের আমলে হলেও বেশিরভাগ ঋণের বোঝার দায় তৃণমূল কংগ্রেসের। শহিদ মিনারের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তেমনই অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। তিনি বলেন বর্তমানে এই রাজ্যে উন্নয়ন পুরোপুরি স্থগিত। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে জয়যুক্ত করলে পাঁচ বছরের মধ্যেই সোনার বাংলা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। প্রতিশ্রুতি অমিত শাহর।  কমিউনিস্ট ও তৃণমূলকে সুযোগ দিয়েছে বাংলার মানুষ। এবার একবার বিজেপির হাতে বাংলার শাসনভার তুলে দেওয়ার জন্য সভা থেকেই আহ্বান জানান তিনি। 

গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে তিনশো আসন পেতে সাহায্য করেছিল বাংলা। কারণ এই রাজ্যের মানুষ উজাড় করে ভোট দিয়েছিল পদ্মফুলকে। অমিত শাহ বলেন সংসদে বাংলার ১৮ জন সাংসদ তাঁর সহকর্মী। এই রাজ্যের মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে বলেই তাঁরা সংসদে যেতে পেরেছেন। আগামী দিনে বাংলার মানুষ বিজেপির জনপ্রতিনিধিদের পাশে থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রবিবার শহিদ মিনারের জনসভা থেকে নাম না করে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন আগামী দিনে কোনও রাজপুত্র বাংলাকে শাসন করবে না। ভূমিপুত্রর হাতেই থাকেব এই রাজ্যের শাসনভার। 

এদিন অমিত শাহ দুর্নীতি, তোলাবাজির প্রসঙ্গ টেনে এনে তুলোধনা করেন তৃণমূল কংগ্রেসের। তিনি বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে সব দিক থেকেই পিছিয়ে পড়েছে বাংলা। কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্পের সুবিধে পাচ্ছে না রাজ্যের কৃষকরা। খুন সন্ত্রাস চলছে এই রাজ্যে। এপর্যন্ত বিজেপির প্রায় চল্লিশ জন কর্মী খুন হয়েছে। রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থ করতে এই রাজ্যে বিজেপি নেতাদের হেলিকপ্টার নামতে দেওয়া হয়নি। এই অভিযোগ তুলে তিনি বলেন  বাংলার মানুষ এমন জুলুম মেনে নেবে না। একই সঙ্গে আগামী দিনে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি এই রাজ্যের শাসনভার দখল করবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন। এতকিছুর মধ্যে বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেছেন দলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ।