এবিভিপি-র প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে তুলকালাম কাণ্ড ঘটার আশঙ্ক ছিল যাদবপুরে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে হেনস্থার অভিযোগে এ দিন ঢাকুরিয়া থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছিল এবিভিপি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক আগে সেলিমপুরের কাছে ব্যারিকেড তৈরি করে মিছিল আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু সেই মিছিলে যা জমায়েত হয়েছিল, তাতে মিছিল নিয়ন্ত্রণ করতে কার্যত কোনও বেগ পেতে হল না পুলিশবাহিনীকে। 

 বেলা আড়াইটে নাগাদ মিছিল সেলমিপুরে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই ব্যারিকডে ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। ব্যারিকেড টপকে মিছিলে থাকা কয়েকজন এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়কেটি ইট ছোড়া হয়। ছোড়া হয় বাঁশ, লাঠিও।  প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সংযম দেখায় পুলিশবাহিনী। কিন্তু মিছিলে যা ভিড় হয়েছিল, তাতে পুলিশকে সেভাবে বলপ্রয়োগ করতেও হয়নি।  ফলে পুলিশের  বাধা পেয়ে শেষ পর্যন্ত রাস্তার উপরেই অবস্থানে বসে পড়েন এবিভিপি সমর্থকরা। পুলিশের সঙ্গে কার্যত সংঘাতে যাওয়ার মতো অবস্থাতেই ছিলেন না এবিভিপি সমর্থকরা। যে মিছিল ঘিরে রণক্ষেত্র হওয়ার আশঙ্কা ছিল যাদবপুর, সেই প্রতিবাদ মিছিল করতে এসে অল্পেই রণেভঙ্গ দেন এবিভিপি-র সমর্থকরা। 

বাবুল সুপ্রিয়র মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে হেনস্থার প্রতিবাদে হওয়া দলের ছাত্র সংগঠনের মিছিলে কেন সেভাবে ভিড় হল না, তা দলীয় নেতাদের কাছে যথেষ্ট অস্বস্তির কারণ।  এ দিন সকাল থেকেই এই মিছিল ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ছিল যাদবপুরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের কাছে জমায়েত করেন পড়ুয়ারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরাও সেখানে মানববন্ধন করেন। কোনওভাবে এবিভিপি-র মিছিল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পৌঁছলে যাতে বিক্ষোভকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করতে পারেন না, সেই কারণেই এক জায়গায় জড়ো হয়েছিলেন পড়ুয়া এবং শিক্ষকরা। সেখানেও কড়া পুলিশি নিরাপত্তার আয়োজন ছিল।