রাজ্য়ের প্রথম করোনা আক্রান্তের রিপোর্ট নেগেটিভ এল। আপাতত সুস্থতার দিকে লন্ডন ফেরত আমলা পুত্র। নাইসেড সূত্রে খবর, তাঁর প্রথম টেস্ট নেগেটিভ এসেছে। আরও একবার তাঁর লালারসের নমুনা পরীক্ষা করা হবে। আগামীকাল সেই পরীক্ষা হবে। একদিন অন্তর এই করোনা পরীক্ষা হয়ে থাকে। দ্বিতীয় রিপোর্ট নেগেটিভ এলেই ওই রোগীকে সুস্থ বলে ঘোষণা করবে স্বাস্থ্য় দফতর। যদিও নিয়ম মেনে আগামী ১৪ দিন হাসপাতালেই কাটাতে হবে আমলা পুত্রকে।

৪জনের বেশি ঢুকতে বাধা শ্মশানে, করোনা রুখতে নয়া বিধি পুরসভার..

এতদিন করোনা আক্রান্ত হয়েও নিস্তার ছিল না। নিজের অসাবধানতার দরুণ সোশ্য়াল মিডিয়ায় ট্রোলের শিকার হচ্ছিল লন্ডন ফেরত। ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে তাকে নিয়ে নানান ছবি। সবার মুখেই এক কথা,রবীন্দ্রনাথরা নোবেল এনেছিলেন, শ্রীমান নভেল করোনা আনলেন। অভিযোগ, লন্ডন থেকে ফিরে স্বাস্থ্য় পরীক্ষা না করিয়ে শপিং মলে ঘুরে বেরিয়েছে মা-ছেলে। আইসোলেশনে না গিয়ে নবান্নে কাজ করেছেন ওই আমলা। পরে ছেলের দেহে করোনা ভাইরাস ধরা পড়ায় হুঁশ ফিরেছে তাঁর। যদিও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। একজন সরকারি আমলার এহেন দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য় তাঁর শাস্তি চেয়েছেন নেটিজেনরা।  

সন্দেহের বশে যুবককে করোনা আক্রান্ত তকমা, ফেসবুক পোস্টে জেলে কাঁকিনাড়ার বাসিন্দা.

জানা গিয়েছে, নবান্নের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন করোনা আক্রান্ত তরুণের মা। নবান্ন ও মহাকরণে তাঁর অফিস হওয়ায় গত দুদিন  বিদেশ থেকে ফিরে ছেলেকে সঙ্গে নিয়েই সমস্ত কাজ সেরেছেন তিনি। এমনকী গুরুত্বপূ্র্ণ বৈঠকে করেছেন নির্দিষ্ট সময়ে। যার  এখন বিপাকে পড়েছেন তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা। আতঙ্ক ছড়িয়েছে তাঁদের পরিবারও।

ইতিমধ্য়েই মহিলার দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট  করেছেন মলয় মুখোপাধ্যায় নামে স্বরাষ্ট্র দফরের এক কর্মী। একই ভয় পাচ্ছেন নবান্নের আরও এক ধপতরের আধিকারিক ইন্দ্রনীল বাগচির স্ত্রী। তাঁর দাবি, নিজের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য যথাযথ শাস্তি হোক ওই আমলার। এদিকে আমলার এহেন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রীও। এদিন নাম না করে ওই আমলা সম্পর্কে  ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্য়মন্ত্রী বলেন,বিদেশ থেকে ফিরে আগে স্বাস্থ্য় পরীক্ষা করান। নিজে থেকেই আলাদা থাকুন। দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো আচরণ করবেন না।  

Lockdown India Live- রাজ্য়ের প্রথম করোনা আক্রান্তের রিপোর্ট নেগেটিভ, ক্রমশ সুস্থ আমলা পুত্র

যা নিয়ে প্রকাশ্য়েই নাম না করে মন্তব্য় করেন মুখ্য়মন্ত্রী। সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভিআইপি থেকে এলআইপি সকলকেই সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে এলে যেতে হবে কোয়ারেন্টাইনে। প্রয়োজনে বাড়িতেও নজরবন্দি হয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু অসাবধানতা কিছুতেই তিনি বরদান্ত করবেন না বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, করোনা সংক্রমণ লুকিয়ে যাওয়া চলবে না। সংক্রমণ রুখতে বিদেশ থেকে ফেরা নাগরিকদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে।

যদিও ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাঁর চিকিৎসক বাবা। তিনি জানিয়েছেন কোনও সিনেমাহলে যায়নি ছেলে। নবান্নে কার পার্কিংয়েই বসে ছিল সে। অফিসেও যায়নি। এ নিয়ে ভুল রটনা হচ্ছে। যদিও ইতিমধ্য়েই ওই চিকিৎসকের ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বা আইএমএ সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে। তবে আমলা মায়ের বিরুদ্ধে ব্য়বস্থা নেয়নি রাজ্য় সরকার।