কলকাতায় করোনা ভাইরাসের জের। কেন্দ্রের সুপারিশ মানতে চলেছে রাজ্য় সরকার। লকডাউন করা হতে পারে কলকাতা সহ রাজ্য়ের পুর শহরগুলি। এমনই সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে রাজ্য় সরকার। সোমবার বিকেল থেকেই লকডাউন হতে পারে এই জায়গাগুলিতে। তবে লকডাউনের হাত থেকে বাদ রাখা হয়েছে অত্যাবশ্য়কীয় পণ্য়কে। আগামী ২৭মার্চ পর্যন্ত চলবে এই লকডাউন।

অজান্তেই করোনা ঢুকেছে, বাগুইআটি নার্সিংহোমে হুলুস্থুলু.

মূল্য়ত, কেনদ্রীয়  সরকারের লক ডাউনের পরামর্শই মানল রাজ্য় সরকার। সব মিলিয়ে দেশের করোনা প্রভাবিত ৭৫টি জেলায় লক ডাউনের প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্র। সেই তালিকায় রয়েছে কলকাতার নাম। ইতিমধ্য়েই পঞ্জাব ও ওড়িশা লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্য়েই দেশের সব রাজ্য়ের মুখ্য়সচিবদের নিয়ে বৈঠক করে কেন্দ্রীয় সরকার। সেখানে দেশের করোনা উপদ্রুত এলাকা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য় মন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে, এখন দেশে করোনা সংক্রমণের মাত্রা স্টেজ-২ তে রয়েছে। এই সময় লক ডাউন না করলে বিপদ বাড়তে পারে। সেকারণেই দেশের ৭৫ টি জেলা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করা হয়েছে রাজ্য়গুলিকে।

সস্ত্রীক ছত্তিশগড় ঘুরতে গিয়েছিলেন দমদমের আক্রান্ত, ট্রেন থেকেই সংক্রমণ !

এদিন সকাল থেকেই দেশে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে চলছে জনতা কারফিউ। রাজ্য়ে যার ব্যাপক সাড়া মিলেছে। সকাল থেকেই শিয়ালদহ স্টেশন ছাড়াও কলকাতার ব্যস্ততম জায়গায়গুলি ফাঁকা দেখে গিয়েছে। জেলার বিভিন্ন সদরেও দেখা গিয়েছে একই পরিস্থিতি। গতকালই কলকাতায় আরও এক ব্যক্তির শরীরে করোনা ধরা পড়ে। এরপর থেকেই কলকাতা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে খোদ নবান্ন। জানা গিয়েছে,আক্রান্ত হওয়ার আগে ছত্তিশগড়ের বিলাসপুরে ঘুরতে গিয়েছিলেন দমদমের করোনা আক্রান্ত। সস্ত্রীক সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের অনুমান, ট্রেন থেকেই ভাইরাস ছড়িয়েছে তাঁর শরীরে। জানা গিয়েছে, আজাদ হিন্দ এক্সপ্রেসে ছত্তিশগড়ে যান দমদমের করোনা আক্রান্ত। পরবর্তীকালে পুণে থেকে এই ট্রেন আসে। ট্রেনের কোনও ব্য়ক্তির থেকেই করোনা ভাইরাস এসেছ ৫৭ বছরের আক্রান্তের শরীরে।  

দমদমের করোনা আক্রান্ত সংকটজনক, ছত্তিশগড়ে গিয়েছিলেন তিনি

আগে আইসোলশেন রাখা হলেও এখন ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে তাঁকে। বর্তমানে চিকিৎসকদের কড়া নজরদারির মধ্য়ে রয়েছেন এই প্রবীণ। যার জেরে স্থাস্থ্য় দফতরকে চিন্তায় রেখেছে রাজ্য়ের চতুর্থ করোনা আক্রান্ত। শারীরিক অবস্থা ভালো না হওয়ায়, তাঁকে আইসোলেশন আইসিইউতে রাখা হয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রবীণের পরিস্থিতি সংকটজনক। আগের তিনজন করোনা রোগীর ছিল বিদেশ যোগ। এবার দমদমের ৫৭ বছরের করোনা রোগীর সঙ্গে মিলল না বিদেশের যুক্তি। 

শোনা যাচ্ছে, বেসরকারি হাসপাতালের যে কর্মীরা ওই প্রবীণের চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন এখন তাদের চিহ্ণিত করে আলাদা রাখার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিগত কিছু দিন ধরে ওই প্রবীণ ব্যক্তি যাদের সংস্পর্শে এসেছেন তাদেরও খোঁজ নিচ্ছে স্বাস্থ্য় দফতর। ইতিমধ্য়েই দমদমের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। এদিকে, লক ডাউন হওয়ার কথা শুনে সোমবার সকালথেকেই রাজ্য়ের বাজারগুলিতে হতে পারে ভিড়ের তাণ্ডব। আগাম সেই সতর্কতা নেওয়ার কথা ভাবছে রাজ্য় সরকার। বিকেলের মধ্য়ে বাড়িতে  শস্য় মজুতের হিড়িক পড়াটা স্বাভাবিক।