মেট্রো রেলে বেনজির দুর্ঘটনা। দরজায় ঝুলন্ত এক যাত্রীকে নিয়েই ছুটতে শুরু করল মেট্রো রেল। সুড়ঙ্গের মধ্যেই থার্ড রেলের উপর ছিটকে পড়ে তড়িদাহত হয়ে মৃত্যু হল ওই যাত্রীর। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটেছে পার্ক স্ট্রিট এবং ময়দান স্টেশনের মধ্যে। 

এ দিন সন্ধে ৬.৪০ মিনিট নাগাদ পার্ক স্ট্রিট স্টেশনে এসে পৌঁছয় একটি মেট্রোর ট্রেন। অফিস টাইমে ঠাসা ভিড়ে মেট্রোয় ওঠার চেষ্টা করেন ওই বৃদ্ধ। কিন্তু দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময় দু'টি পাল্লার মধ্যে তাঁর হাত আটকে যায়। দরজার বাইরেই যাত্রী যখন ঝুলছেন, সেই অবস্থায় চলতে শুরু করে ট্রেন। ট্রেন যখন প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে সুড়ঙ্গের মধ্যে ঢোকে, তখন দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে থার্ড রেলের উপরে ছিটকে পড়েন ওই বৃদ্ধ। তড়িদাহত হয়েই মৃত্যু হয় তাঁর। পরে জানা যায় মৃতের নাম সজল কাঞ্জিলাল (৬৬)। তিনি দক্ষিণ কলকাতার কসবা এলাকার বাসিন্দা। সজলবাবু প্রতিদিনই নন্দনে লিটল ম্যাগাজিন বিক্রি করতেন। এ দিনও সেখান থেকেই তিনি বাড়ি ফিরছিলেন বলে খবর।

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন মৃত যাত্রীকে উদ্ধার করতেই অনেকটা সময় কেটে যায়। যুবক বাইরে ঝুলতে থাকা সত্ত্বেও কেন ট্রেনের চালক বা গার্ড তা বুঝতে পারলেন না, সেই প্রশ্ন উঠছে। নিয়ম মতো, মেট্রোর ট্রেনের কোনও দরজা যদি বন্ধ না হয়, তাহলে তা জানতে পারেন চালক এবং গার্ড। সেক্ষেত্রে ট্রেন ছাড়ার কথা নয়। কিন্তু এ দিন ওই যাত্রীর হাত দরজার মাঝখানে আটকে থাকা সত্ত্বেও  তা চালক বা গার্ড কেন টের পেলেন না, সেই প্রশ্ন উঠছে। সম্ভবত ডোর সেন্সর কাজ না করাতেই এই বিপত্তি বলে মনে করা হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, সুড়ঙ্গের মধ্যে যাত্রী থার্ড রেলে ছিটকে পড়ার পরে পোড়া গন্ধ বেরোতে থাকে। 

আরও পড়ুন - কলকাতায় কি এবার দরকার 'ওশিয়া'! বিশ্বের জনবহুল শহরেগুলির মেট্রো-তে দেখা মেলে এঁদের

আরও পড়ুন - কলকাতা মেট্রোর দরজা কেলেঙ্কারি, একের পর এক ঘটনাতেও ফেরেনি হুঁশ

কলকাতা মেট্রোর ইতিহাসে এই ধরনের দুর্ঘটনা নজিরবিহীন।  দীর্ঘক্ষণ মেট্রো রেকের মধ্যেই আটকে থাকেন যাত্রীরা। প্রায় আধ ঘণ্টা পরে তাঁদের নামিয়ে এনে ট্রেনটিকে সরানো হয়। এই দুর্ঘটনার জেরে ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ঘটনাস্থলে যান পুরমন্ত্রী ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম। পপরে মৃতের বাড়িতে যান দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ মালা রায়। তিনি জানান, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মৃতের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।