স্যামসাঙ গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপ গত সপ্তাহেই লঞ্চ হয়েছিল সান ফ্রান্সিসকোতে।  এই স্মার্টফোনটি স্যামসাঙের দ্বিতীয় ফোল্ডেবল ফোন। এই ফোনের স্ক্রিন "আলট্রা থিন গ্লাস" দিয়ে তৈরি তা আমরা আগেই জানিয়েছিলাম। স্যামসাঙ ঠিক এই কথাই তো জানিয়েছিল যে গ্যালাক্সি ফোল্ড বা মোটোরোলা রেজরের যে প্লাস্টিকের স্ক্রিন তার থেকে অনেক বেশি পোক্ত জেড ফ্লিপের স্ক্রিন, স্ক্র্যাচ বা আঁচড় সহজে আসবে না এই ফোনে। কিন্তু আদপে কি দেখা গেল? বিখ্যাত ইউটিউবার জেরিরিগএভরিথিং করেছিল সহনশক্তির পরীক্ষা। দেখা গেল অন্যান্য প্লাস্টিকের স্ক্রিনের মতোই এই ফোনেও সহজেই লেগে গেল আঁচড়। ডুরাবিলিটি টেস্টে স্ক্র্যাচ প্রুফ সংক্রান্ত যা যা দাবি করেছিল স্যামসাং তা মিললনা আদপে।

ইউটিউবের এই ভিডিওয়  জ্যাক নেলসন ডিসপ্লে গ্লাস নিয়ে অনেক রকমের পরীক্ষা করলেন। কতটা পোক্ত এই গ্লাস তিনি দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, পরীক্ষার ফল ভালো হল না। স্ক্রিনে দাগ তো দেখা দিলই, কঠিনত্ব বা হার্ডনেসের পরীক্ষায়ও ফলাফল দেখে আশাহত হবেন অনেকেই। ডিসপ্লে সারফেস ওপেন হয়ে গেল সহজেই। ৯৮, ৬০০ টাকার ফোনের এই পরিণতি দেখে কতজন ক্রেতা প্রায় লাখ টাকা খরচ করে এই ফোন ভবিষ্যতে কিনবেন সে নিয়ে সন্দেহ থেকেই গেল।

তবে বেন্ড টেস্টে এই গ্যালাক্সি  জেড ফ্লিপের ফল স্যামসাঙের দাবি মতোই হয়েছে। অনেকখানি চাপ দিয়ে বেঁকানোর চেষ্টা করেও এই ফোনের স্ক্রিন বেঁকে যায়নি। তবে শেষে খুঁচিয়ে স্ক্রিনের মধ্যে ফাটল তৈরি করার পর হাওয়া ঢুকে যাওয়াতে স্ক্রিনটি শেষমেষ কালো হয়ে যায়। 

স্যামসাঙ জেড ফ্লিপ ফোনে ইউটিজি -এর ওপর থাকছে বাইরের প্রোটেকটিভ লেয়ার। স্যামসাঙের দাবি যেসব স্ক্র্যাচ এসেছে সেগুলো সব ওই ওপরের প্রোটেকটিভ লেয়ারের ওপর, আসল ডিসপ্লে অক্ষুণ্ণ থাকবে। আর যদি স্যামসাঙ গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপে দাগ পড়ে তাহলেও স্যামসাং একবার পাওয়া যাবে রিপ্লেসমেন্ট অফার। স্ক্রিন প্রোটেকটরের ক্ষেত্রেও একবার বিনামূল্যে বদলে নেওয়ার সুযোগ থাকছে।