ছবি- রে

পরিচালনা- সৃজিত মুখোপাধ্যায়, ভাসান বালা, অভিষেক চৌবে

অভিনেতা-অভিনেত্রী- মনোজ বাজপেয়ী, হর্ষবর্ধন কাপুর, গজরাজ রাও, কে কে মেনন, আলি আফজাল

গল্প- সত্যজিত রায়ের লেখা চার ছোট গল্প অনুসারে তৈরি ছবি রে। সেগুলি যথাক্রমে ‘বিপিন চৌধুরীর স্মৃতিভ্রম’, ‘বহুরূপী’, ‘বারীন ভৌমিকের ব্যারাম’ আর ‘স্পটলাইট’। যা গল্পে হয়ে উঠেছে ফরগেট মি নট’, ‘বহুরূপিয়া’, ‘হাঙ্গামা হ্যায় কিঁউ বরপা’ এবং ‘স্পটলাইট’। সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে গল্পের বেশ কিছুটা অংশতে আধুনিক ধাঁচে সাজানো হয়েছে। গল্পের মূল অংশ একই রেখে বদলে ফেলা হয় এর উপস্থাপনা। তবে গল্রের চরিত্ররা মর্ডান হলেও, কোথাও পুরোনো গল্পের স্বাদ খানিকটা হলেও নজরে আসে রে-তে। 

অভিনয়- মনোজ বাজপেয়ী থেকে শুরু করে কে কে মেনন, গল্পের চরিত্রের সঙ্গে এক শতাংশ সামঞ্জস্য রেখেই ফুঁটিয়ে তোলে গল্প। সত্যজিৎ রায়ের ফ্লেবার ধরে রাখাটাই ছিল চ্যালেঞ্জ। গল্পকে আধুনিক করে তুলতে গিয়ে কোথায়  গিয়ে যে লুক দেওয়ার প্রয়োজন ছিল তা ধরা পড়ে কানায় কানায়। ফলে রে-এর অভিনয় এক বিশেষ দিক হয়ে উঠেছে, তা বলতেই হয়।  

চিত্রনাট্য- চিত্রনাট্যের ক্ষেত্রে গল্পকে নতুন ছকে লেখা হয়। গল্পকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তুলে ধরার জন্য এক অন্য সেড দেওয়া চেষ্টা প্রশংসনীয়। যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া, গ্লোবালাইজেশন-এর মত বিষয়গুলো উঠে এসেছে। যা মূল গল্পের থেকে অনেকাংশে অ্যাডভান্স। কিন্তু গল্পরে যে অরিজিনালিটি, তা কোথাও নষ্ট হতে দেওয়া হয়নি। 

সিনেমাটগ্রাফি- ট্রেলারে ঠিক যতটা পার্ফেক্ট ফ্রেম ধরা পড়ে, গোটা ছবিতেই তা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কোথাও গিয়ে সেট বা পরিস্থিতির বদল ঘটানো হয়েছে চিত্রনাট্যের চাহিদা অনুসারে। 

পরিচালনা- ফরগেট মি নট এবং বহুরুপিয়া এই দুই ছবির পরিচালনাতে ছিলেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। যেখানে গল্পের সঙ্গে ছবির দুই বৃদ্ধর চরিত্রের জীবনের সেড একই লুকে ধরা পড়ে। পরিচালনার ক্ষেত্রে অবশ্যই এ যেন এক সাহসীকতা। গল্প থেকে গল্পকে নতুন করে আবিষ্কার করে উপস্থপনা করার প্রয়াস প্রশংসনীয়। অভিষেক চৌবের  হাতে হামঙ্গামা হ্যায় কিউ ভারপা-ও দর্শকদের ভালো লাাগবে। তবে কোথাও যে এই গল্পের বুনটে খানিকটা অভাব ছিল তা চোখে পড়ে। ভাসান বালার হাতেও গল্পের উপস্থাপনা ভালো।