ছবিঃ মর্জি

পরিচালনাঃ অনিল সেনিয়র 

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ রাজিব খান্ডেয়াল, অহনা কমরা, বিবেক মুশরান

ওটিটি প্ল্যাটফর্মঃ  ভোট

গল্পঃ অনুরাগ, চাকরী সূত্রে তাঁর পোস্টিং হয় সিমলাতে। পেশায় ডাক্তার। প্রায়ত হয়েছেন তাঁর স্ত্রী। ছেলেকে নিয়ে সৎ জীবন যাবন করেন। এমনই সময় তিনি লক্ষ্য করেন ছেলের স্কুলের টিচার সমীরাকে তিনি পছন্দ করেন। সমীরাও তাও বুঝত। তার ওপর তাঁর দিদি অনুরাগের সঙ্গে একই হাসপাতালে কাজ করেন। ফলে একপ্রকার জোর করেই দিদি সমীরাকে অনুরাগের সঙ্গে দেখা করতে পাঠান। নিপাট এক ভদ্র ছেলের সঙ্গে ডেট। রাতে বাড়ির সামনে ছাড়তে এসে অনুরাগ দেখে ফোনে চার্জ নেই, বাড়িতে একটু বসা, এরপর গল্প শুরু ভোরবেলায়।সমীরা ঘুম থেকে উঠে আবিষ্কার করেন তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে। 

অভিনয়ঃ রাজিবের সঙ্গে অনুরাগের লুক, চরিত্র সবই যেনই মানানসই। ভদ্রমানুষের ভেক ধরে ধর্ষণের মত ঘৃণ্য অপরাধ তিনি করতে পারেন, তা ছবির শেষ পর্যন্ত বোঝা দায়। তাঁর লুক থেকে শুরু করে চরিত্রের উপস্থিতি, এক কথায় সবই যেন একশো-তে একশো। অন্য দিকে সমীরার চরিত্রে অহনা ততটাই ভারসাম্য বজায় রাখলেন যা অভিনয়ের দিক থেকে এই ওয়েব সিরিজকে বেশ কিছুটা এগিয়ে রাখে। 

চিত্রনাট্যঃ অনবদ্য মর্জির চিত্রনাট্য। একবার এই ওয়েব সিরিজ শুরু করলে, তা শেষ না করে ওঠা দায়। এতটাই টান টান উত্তেজনা দিয়ে সাজানো গল্পের ভাঁজ। গল্প বলা যখন শুরু, তখন মর্জির একটি দিক উঠে আসে, দর্শক অনুরাগের পক্ষেই কথা বলা শুরু করে, কিন্তু গল্পের গতি যতই এগোতে থাকে, ততই এক সুক্ষ্মক্রাইম থ্রিলার সকলের চোখে পড়ে। তবে শেষ গিয়ে দর্শকদের নিরাশ হতে হয়। যতটা সুন্দরভাবে গল্পকে ধরে রাখা হয়েছিল, ঠিক ততটা সুন্দর করে গল্পের শেষ হল না। মুহূর্তে যেন সবটা খোলসা হয়ে যায়, যা মেতে নিতে বেজায় অস্বস্তি। 

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ সিমলাতে শ্যুটি এই ওয়েব সিরিজ। যার ফলে দৃশ্যে যে এক সৌন্দর্যতা বজায় থাকবে তা বলাই বাহুল্য। ঝাঁচকচকে ফ্রেম। রঙিন, সতেজ, এক প্রাণ খোলা আবেদন, ক্রাইম থ্রিলার বলেই যে তা নীল আলো ও অন্ধকার রাতে হারিয়ে যাবে মর্জি সেই কথা বলে না। সেট ন্যাচারল, পাশাপাশি অনক বেশি ব্রিদিং স্পেস দেয় ওই ওয়েব সিরিজের বিভিন্ন লোকেশন শ্যুট। 

পরিচালনাঃ গল্পে এক সুন্দর বার্তা রযেছে, যা শেষ গিয়ে সামনে আসে, কেউ যখন সঙ্গমে না বলে নি, তখন ধরে নিতে হবে সে হ্যাঁ বলেছে এমনটা নয়। যার ফলেই তা ধর্ষণের আওতায় পরে, যদিও গল্পের শেষ তা ধর্ষণ বলেই প্রমাণিত হয়। ছয়টি পর্বে এক সুন্দর ব্যালেন্স রাখা হয়েছে। গল্পের গতি কোথাও গিয়ে শিথিল হয় না। যার ফলে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। তবে শেষটা আরও অনেক বেশি বুনটে বাঁধা হলে মর্জি দশে দশ। 

সমালোচনাঃ গল্পে বেশকিছু অপ্রাসঙ্গিক বিষয় রয়েছে। যেখানে অনুরাগের ছেলে ও তার প্রেমিকার ঘটনাস কিংবা সমীরার দিদির সঙ্গে সমীরার প্রাক্তণ প্রেমিকের সম্পর্ক গল্পে তেমন কিছু সংযোজন করতে পারে না। এতে গল্প কেবল দীর্ঘই হয়েছে। পাশাপাশি গল্পের শেষ এত সহজেই এমন একজন ক্রিমিলানকে ধরে ফেলাটাও যেন মর্জিক দর্শকেরা নিতে পারে না। এই দুই ছাড়া বাকি গল্পের বার্তা থেকে শুরু করে শ্যুট, অভিনয় সবই সকলের নজর কাড়ে।