ছবির নামঃ বাঘি ৩
পরিচালকঃ আহমেদ খান
অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ টাইগার শ্রফ, শ্রদ্ধা কাপুর, রিতেশ দেশমুখ
প্রযজক সংস্থাঃ ফক্স স্টার স্টুডিও প্রযোজনা 

গল্পঃ দুই ভাই, একে অন্যের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত। বুকে করে আগলে রাখা সেই সম্পর্কেই যখন আঘাত পড়ে সবটাই যেন বদলে যায়। টাইগার শ্রফের ভাই যখন সিরিয়াতে যায় তখনই তাঁকে আটক করে স্থানীয় জঙ্গি গোষ্ঠী। এরপরই গোটে দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে টাইগার। ভাই যেখান থেকেই ডাকুক হাজির হয়ে যায় টাইগার। কিন্তু বিদেশের মাটিতে কী পাড়বে! ছবি সেই গল্পই বলে। 

অভিনয়ঃ এক কথায় বলতে গেলে টাইগার এখন বলিউডের অ্যাকশন হিরো। ফলে অ্যাকশন সিক্যুয়েন্সে অনবদ্য তিনি। অভিনয়ে নজর কেড়েছেন শ্রদ্ধা কাপুরও। তবে তাঁর ভূমিকাটা বেশ কম। তবে রিতেশ দেশমুখের অভিনয়ের আরও এক সেড ধরা পড়ল এই ছবিতে। বাঘি ছবিতে ঠিক যে লুকে ধরা দিয়েছিলেন টাইগার, সেই একই ফ্রেমে আরও একবার নজর কাড়লেন তিনি। 

চিত্রনাট্যঃ দুর্বল চিত্রনাট্য ছবির মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়ালো। ভাইয়ের সম্পর্ক, তাঁর প্রতি টান পর্যন্ত ঠিকই চলছিল ছবি। কিন্তু সেখান থেকে বিদেশে পাড়ি এবং সেখানে গিয়ে ভাইকে উদ্ধার সব কিছু মধ্যেই কেমন যেন এক অতিরঞ্জিত বিষয়। যা ছবির ভাবমূর্তিকে নষ্ট করে। গল্পের মধ্যে বুনটের অভাবেই জমল না বাঘি থ্রি। 

সিনেমাটোগ্রাফিঃ ছবির সিনেম্যাটোগ্রাফি বেশ নজর কাড়ে। ছবিতে একাধিক সিক্যুয়েন্সে ব্যবহার করা হয়েছে গ্রাফিক্স। সেটও তৈরি করা হয়েছিল গ্রিনস্ক্রিনে। তবে তা একটা সময় পর্যন্ত নজর কাড়ে। ছবিতে ক্যামেরা বেশ ভালো। পর্দায় টাইগার, শ্রদ্ধা ও রিতেশকে বেশ মানায়। গানের দৃশ্যগুলোও বেশ ভালো। 

কথা-গানঃ এই ছবির তিন গানই এক কথায় হিট। দুটি গান রিমেক, দশ বাহানে করকে লে গ্যায় আর ভাঙ্কস। দুটি গানেই শ্রদ্ধা-টাইগার জুটির নাচ এক কথায় অনবদ্য। ছবির আরও এক গান নজর কাড়ে নেট দুনিয়ায়। তা হল দিশা পাটানির আইটেম গান ডু ইউ লাভ মি। এই গানটি ছবির সব থেকে জনপ্রিয় গান। 

পরিচালনাঃ ছবির মধ্যে আদ্যপান্ত ভারসাম্য রক্ষা করতে এক কথায় ব্যর্থ পরিচালক। গল্পহীন এক অ্যাকশন ভরপুর ছবি এক কথায় দর্শকদের নিরাশ করে। অ্যাকশন সিক্যুয়েন্সে টান টান উত্তেজনা থাকলেও কোথাও গিয়ে যেন এই ছবি মন ছুঁলো না। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তা দানা বাঁধল না। বাঘি সিরিজ থেকে দর্শকদের যে প্রত্যাশা ছিল তা গিয়ে কোনও অংশে যেন কমে গেল।

সমালোচনাঃ ছবির চিত্রনাট্যেই রইল একাধিক গলদ। টাইগারের পর্দায় উপস্থিতি নজর কাড়া হলেও তাঁর অভিনয় করার জায়গাটা ছবিতে ছিল বেশ কম। পাশাপাশি রিতেশ দেশমুখেরই বা কেন এত নিরাপত্তার প্রয়োজন, কেন তিনি শিশু সুলভ আচরণ করেন সেই বিষয়ও কোনও ইঙ্গিতই মিলল না চিত্রনাট্যে। বরং মারপিঠ ও অ্যাশকনই বড় হয়ে দাঁড়ালো। 

বিশ্লেষণঃ ছবির বেশিরভাগ অংশটাই অর্থহীন মারপিঠ। বেশ কিছু অংশে দুই সিক্যুয়েন্সের মাঝে ভারসাম্যের অভাব লক্ষ্য করা যায়। গল্পের গতি বেশ দ্রুত। দুই অর্ধে ছবিতে সমান তালে উপস্থাপনা করতে এক কথায় ব্যর্থ পরিচালক। তেমনই আবার যাঁরা টাইগারের পর্দায় উপস্থিতি, বডি ও অ্যাকশনের মুহূর্তে উপভোগ করতে চান, তাঁদের জন্য এই ছবি এক কথায় পার্ফেক্ট।